শপথের ব্রিগেডে ‘হিট’ ঝালমুড়ি, স্টলে উপচে পড়া ভিড়, খুশি দোকানিরা

ভোটের প্রচারে রাজ্যে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়া যেন এবারের বাংলার রাজনীতিতে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। তারপর থেকেই ঝালমুড়ি হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক উদযাপনের অন্যতম প্রতীক। শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে সেই উন্মাদনাই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল।

রাজ্যে প্রথমবার সরকার গড়ছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি এদিন শপথ নেন নতুন মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যরাও। সকাল থেকেই ব্রিগেড চত্বরে ছিল উৎসবের আবহ। দূরদূরান্ত থেকে আসা কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ে জমজমাট হয়ে ওঠে ময়দান এলাকা। আর সেই ভিড়ের কেন্দ্রবিন্দুতে জায়গা করে নেয় ঝালমুড়ির একাধিক স্টল।
শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা বহু মানুষকে দেখা যায় হাতে ঝালমুড়ির ঠোঙা নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে।

কেউ অনুষ্ঠান শুরুর আগে, কেউ আবার মাঠে ঢোকার পথেই ঝালমুড়ি খেয়ে উদযাপনে মেতে ওঠেন। অনেকের বক্তব্য, বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা ঝালমুড়িকে নতুনভাবে জনপ্রিয় করে তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সমর্থকদের একাংশের কাছে এটি এখন যেন ‘মোদী প্রসাদ’।


মাত্র কুড়ি টাকায় পেট ভরছে, আবার বিক্রেতাদেরও ভালো ব্যবসা হচ্ছে— এমন মন্তব্যও শোনা যায় সাধারণ মানুষের মুখে। কেউ কেউ রসিকতা করে বলেন, রুটি-তরকারির বদলে এবার সকালের জলখাবারেই জায়গা করে নিতে পারে ঝালমুড়ি।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ঝাড়গ্রামে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে একটি দোকানে দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। দোকানদারের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি তিনি নিজের হাতে ঝালমুড়ির দামও মিটিয়ে দেন। সেই ছবি সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক প্রচার এবং উদযাপনের সঙ্গে ঝালমুড়ির নাম বারবার উঠে আসে।

৪ মে নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিনও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ঝালমুড়ি বিলি করতে দেখা যায়। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনও ঝালমুড়ি খেয়ে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয় উদযাপন করেছিলেন। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি পেয়েছে ২০৭টি আসন। সেই ঐতিহাসিক জয়ের আবহেই ২৫শে বৈশাখ, রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিনে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হল নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। আর সেই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠল বাংলার চিরচেনা ঝালমুড়ি।