মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর পুরসভায় অনাস্থা প্রস্তাবের জেরে চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারিত হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম। যদিও সূত্রের খবর, নির্ধারিত বৈঠকের আগেই তিনি চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেন। এর ফলে জঙ্গিপুর পুরসভার বোর্ড কার্যত ভেঙে গেল। আগামী নভেম্বর মাসে রাজ্যের পুরসভাগুলিতে নির্বাচন হতে পারে বলে জল্পনার মধ্যেই জঙ্গিপুরে প্রশাসক বসানো হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
কয়েকদিন আগেই ভাইস চেয়ারম্যান সন্তোষ চৌধুরীর নেতৃত্বে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন ১১ জন কাউন্সিলর। সেই প্রস্তাব মহকুমাশাসকের দপ্তরে জমা পড়ে। তার ভিত্তিতেই সোমবার অনাস্থা সংক্রান্ত বিশেষ বৈঠক ডাকা হয়।
বৈঠকে চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভোট দেন তৃণমূলের ১৫ জন কাউন্সিলর, সিপিএমের ৩ জন এবং কংগ্রেসের ১ জন কাউন্সিলর। বিজেপির কোনও প্রতিনিধি এদিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থনে চেয়ারম্যানকে অপসারণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
অনাস্থা প্রসঙ্গে ভাইস চেয়ারম্যানের সন্তোষ চৌধুরী বলেন, আমরা সবাই মিলে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছিলাম। আজ ভোটাভুটি ছিল। সবাই চেয়ারম্যানের অপসারণের পক্ষেই ভোট দেন।’
উল্লেখ্য, জঙ্গিপুর পুরসভার মোট ২১টি আসনের মধ্যে নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ১৫টি, কংগ্রেস ২টি, সিপিএম ৩টি এবং বিজেপি ১টি আসনে জয়ী হয়েছিল। পরে বিরোধী শিবিরের একজন কাউন্সিলর তৃণমূলে যোগ দিলে বোর্ড গঠন করে শাসকদল। চেয়ারম্যান হন মফিজুল ইসলাম এবং ভাইস চেয়ারম্যান হন সন্তোষ চৌধুরী।
কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে সরব হন ভাইস চেয়ারম্যান ও শাসকদলের একাংশ। শেষ পর্যন্ত সেই অসন্তোষ অনাস্থা প্রস্তাবে রূপ নেয় এবং সোমবারের বৈঠকে চেয়ারম্যান অপসারিত হন।