জঙ্গলমহলের মানুষ আজ জল-খাদ্য পাচ্ছেন, আগামীদিনে সব পাবেন: টুডু

Image: SNS

জঙ্গলমহলে একদা মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকাগুলির মধ্যে অন্যতম বাঁকুড়ার রানিবাঁধ। সেসব অন্ধকার দিনে বেঁচে থাকাই ছিল কঠিন। কিন্তু অদম্য জেদের কাছে হার মানে সব। সেভাবেই প্রতিকূলতার সঙ্গে যুঝে আজ রাজ্য মন্ত্রিসভায় পৌঁছে গিয়েছেন রানিবাঁধের ভূমিপুত্র ক্ষুদিরাম টুডু। আদিবাসী উন্নয়ন ও অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ এবং সংখ্যালঘু কল্যাণ ও মাদ্রাসা শিক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। স্টেটসম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন ভুয়ো এসসি, এসটি শংসাপত্র বাতিল  কাজ চলছে।

প্রশ্ন- আদিবাসী সমাজের কল্যাণের জন্য কি ভাবছেন আপনি?
উত্তর – আদিবাসীদের উন্নয়ন করার জন্য যা যা প্রয়োজন সবটা করছি, আমি ইতিমধ্যেই সচিবদের, প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি-দের বলে কাজ শুরু করে দিয়েছি। যাঁরা বিগতদিনে যেভাবে ট্রাইবালের ডেভেলপমেন্টের অর্থ বাইপাস করে খরচ করেছে, তাঁদের বিষয়েও আমি তদন্ত করার কথা জানিয়েছি।

প্রশ্ন – বহু প্রান্তিক জেলার বহু গ্রামাঞ্চলের পড়ুয়াদের কলকাতায় এসে পড়াশোনার বিষয় এবং হোস্টেল নিয়ে একটা বহুদিনের দাবি আছে।কীভাবে তাঁদের সমস্যার সমাধান করবেন?
উত্তর – দেখুন, আমি ট্রাইবালদের জন্য যেটা এসসি অ্যান্ড এসটি হোস্টেল যেটা বন্ধ হয়ে গেছে সেগুলো পুনরায় চালু করব। প্রতিটি ট্রাইবাল এলাকায় বা ট্রাইবাল ব্লকে কেন্দ্রীয় সরকারের যে সিদ্ধান্ত,
ট্রাইবাল অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্টের একলব্য মডেল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল, নিউ সেটআপ তৈরি করা হবে।’


প্রশ্ন – আপনার জেলা সফর সম্পর্কে যদি কিছু বলেন।
উত্তর – আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ডিএম, এসপিদের নিয়ে প্রায় প্রতিমাসে বৈঠক করা হচ্ছে। তার আগে এলাকাগুলোর মানুষদের সমস্যাগুলো ঠিক কি কি তা নথিভুক্ত করা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ট্রাইবালদের সমস্যা আশা করছি সমাধান করতে পারব।

প্রশ্ন – জঙ্গলমহলে কি শিল্প হবে? আদিবাসী সমাজের কর্মসংস্থানের ব্যাপারে নির্দিষ্ট করে কিছু ভেবেছেন?
উত্তর – শিল্প আনার জন্য চেষ্টা করছি। জঙ্গলমহলের মানুষের যাতে কর্মসংস্থানে একটু সুবিধা হয়। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এই জায়গাগুলোতে বিভিন্ন কারখানা আছে। বিশেষত সিমেন্ট কারখানা রয়েছে। তারা যাতে আরো বেশি করে ইনভেস্ট করে সে চেষ্টা করে যাচ্ছি। আগামী দিনে পশ্চিমবাংলা শিল্পের দিক থেকে শীর্ষে থাকবে।

প্রশ্ন – যে জায়গা থেকে আপনি উঠে এসেছেন তা মাওবাদী অধ্যুষিত ছিল। জঙ্গলমহল বা আদিবাসি সমাজ কতটা পরিবর্তন দেখতে পাবে এবার?
উত্তর – পরিস্থিতি ভালো ছিল না। উন্নয়ন এত বছর কিছুই হয়নি। সিআরপিএফ এর সঙ্গে এনকাউন্টারে মাওবাদী মারা গেছে। আবার উল্টোটাও হয়েছে। পানীয় জলের ব্যবস্থাটুকু পর্যন্ত ছিল না। এই সরকারের বয়স মাত্র দুমাস। জঙ্গলমহলের মানুষ উপকৃত হবেন। বেশ কিছু প্রজেক্ট শুরু হয়ে গেছে। মানুষ জল পাচ্ছেন, খাবার পাচ্ছেন। যা যা সুযোগ সুবিধা সব জঙ্গলমহলের মানুষদেরও প্রাপ্য। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে সরকার গঠন হয়েছে। ধীরে ধীরে সবটাই হবে।