রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একের পর এক কড়া পদক্ষেপের নজির দেখা যাচ্ছে। সেই আবহেই এবার নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল জাহাঙ্গির খান তথা ‘পুষ্পা’কে ঘিরে একটি ঘটনা। অভিযোগ, জাহাঙ্গিরকে তার বাড়ির এলাকাতে হাফপ্যান্ট পরিয়ে রাস্তায় ঘোরানো হয়েছে। ফলতার এই তৃণমূল নেতাকে নেপাল সীমান্ত থেকে গ্রেফতার করেছিল রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। জাহাঙ্গিরের ‘ঝুকেগা নেহি’ সংলাপ ঘিরে সরগরম হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। ফলতার নির্বাচনের আগে জাহাঙ্গিরের বাড়িতে হানা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশ। দেখা গিয়েছে আর সেই দাপট নেই ফলতার অবিসংবাদী নেতা জাহাঙ্গিরের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি প্রশাসনের নজরে আসে বেশ কিছু অনিয়ম ও বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগ। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয় বলে দাবি প্রশাসনের একাংশের। যদিও ঘটনার সঠিক প্রেক্ষাপট এবং আইনি অবস্থান নিয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি, তবুও ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।
সরকারি সূত্রের দাবি, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দুর্নীতি, তছরুপ এবং প্রশাসনিক অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, আইনের চোখে সকলেই সমান এবং যে কোনও অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে।
অন্যদিকে, জাহাঙ্গিরকে ঘিরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। শাসকদলের সমর্থকদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে অন্যায় করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিতেই প্রশাসন সক্রিয় হয়েছে। তাঁদের মতে, আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া সময়ের দাবি। যদিও, ২০১৯ সালে জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলায় রক্ষাকবচ পান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ফলতার ওই তৃণমূল নেতা।
তবে বিরোধী শিবিরের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচার হওয়া উচিত। প্রকাশ্যে কাউকে অপমান করা বা সামাজিকভাবে হেনস্থা করা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বিরোধীদের অভিযোগ, এ ধরনের ঘটনা সমাজে ভুল বার্তা দিতে পারে এবং আইনের শাসনের প্রশ্নও তুলে দিতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক আবহ অনেকটাই উত্তপ্ত। ফলে প্রশাসনিক বা আইনি পদক্ষেপের প্রতিটি ঘটনাই রাজনৈতিক রং পাচ্ছে। জাহাঙ্গিরকে ঘিরে এই ঘটনাও তার ব্যতিক্রম নয়। আগামী দিনে তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং প্রশাসন এ বিষয়ে কী অবস্থান নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।
ফলে একটি স্থানীয় ঘটনা এখন রাজ্য রাজনীতির আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। জাহাঙ্গিরকে ঘিরে বিতর্ক আগামী কয়েক দিন রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও জোরালো হতে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।