রাজ্যের ভোটার তালিকায় প্রায় ৬০ লক্ষ নাম এখনও বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন বয়কটের ডাক দিলেন আইএসএফের বিদায়ী বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। রবিবার তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে এই বিষয়ে সরব হওয়ার আবেদন জানান।
নওশাদ সিদ্দিকির বক্তব্য, ‘যাঁদের নাম এখনও বিচারাধীন, তাঁদের মধ্যে কেউ যদি প্রার্থী হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁদের কী হবে? নির্বাচন কমিশনের কাছে এর কোনও স্পষ্ট নির্দেশিকা নেই। প্রায় ৬০ লক্ষ নাম কম নয়। এতে গণতন্ত্রের উৎসব অসম্পূর্ণ থেকে যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো তৃণমূলের সর্বভারতীয় নেতৃত্ব। এই বিষয়টি নিয়ে তাঁর সোচ্চার হওয়া উচিত। প্রয়োজনে তিনি ভোট বয়কটের ডাক দিন। যতক্ষণ না এই ৬০ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হচ্ছে, ততক্ষণ ভোট ঘোষণা করা উচিত নয়।’
নওশাদ জানান, নির্বাচন কমিশন যদি নিজেদের ক্ষমতা প্রয়োগ করে ভোটের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যায়, তাহলে ভোট বয়কটের কথাও ভাবা উচিত। পাশাপাশি এই সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জ করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। তাঁর কথায়, ‘আমরা আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করছি। এই সিদ্ধান্তকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করার কোনও পথ আছে কি না তা দেখছি।’
এদিকে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই প্রথম সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির তালিকা অনুযায়ী ৬০ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম বিচারাধীন ছিল।
সূত্রের খবর, এর মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ১৫ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়েছে। গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির তরফে জানানো হয়েছিল যে প্রায় ১০ লক্ষ নামের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ লক্ষে।
এই ১৫ লক্ষের মধ্যে ৮ লক্ষের বেশি ভোটার ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন বলে জানা গিয়েছে। তবে পাঁচ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে। তাঁদের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত ট্রাইবুনাল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিচারাধীন ভোটারদের বিষয়ে দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য জোরকদমে কাজ চলছে। এখনও প্রায় ৩৫ লক্ষ নামের বিষয়ে সিদ্ধান্ত বাকি রয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার কয়েক দিন আগে বাংলায় এসে জানিয়েছিলেন, ভোটের আগেই এই বিচারাধীন নামগুলির নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করা হবে।
বর্তমানে রাজ্যজুড়ে প্রায় ৫০০ বিচারক এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বলে কমিশন সূত্রে খবর।