আইএসএফ-সিপিএমের সঙ্গে বিজেপির তুমুল সংঘর্ষ, জীবনতলায় আহত ৪০

ISF-BJP Clash Jibantala Photo-SNS

এখন কোনও নির্বাচন নেই। তারপরও সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা। শনিবার দুই দলের মিছিলকে কেন্দ্র করে তুমুল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ল আইএসএফ-সিপিএম এবং বিজেপি। এই সংঘর্ষের মধ্যে লাঠি, কটূক্তি, মারধর চলে বলে অভিযোগ উঠেছে। যার জেরে আহত প্রায় ৪০ জন। এই সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জীবনতলা থানার পুলিশ। রাজনৈতিক সংঘর্ষে অশান্তির বাতাবরণ তৈরি হয় ক্যানিংয়ের জীবনতলায়। এই সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় খুঁচিতলা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে এদিনের রাজনৈতিক সভা শেষ করে ফেরার পথে বচসায় জড়িয়ে পড়ে দুই দল। জীবনতলার বাজার এলাকায় তা থেকে ব্যাপক গোলমাল শুরু হয়ে যায় দু’পক্ষের মধযে। লাঠি নিয়ে চড়াও হন কিছু কর্মী-সমর্থক বলে অভিযোগ। একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। যাতে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে অশান্ত জীবনতলার ছবি। শুক্রবার এখানেই আইএসএফ এবং সিপিএম কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে পাল্টা শনিবার আইএসএফ এবং সিপিএম কর্মীরা এক হয়ে এলাকায় প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। ওই মিছিল চলাকালীন বিজেপির পক্ষ থেকে আচমকা হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। তখনই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

অন্যদিকে বিবাদ, উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যায় মুহূর্তের মধ্যে। দুই দলের কর্মীদের মধ্যে রীতিমতো খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায়। ব্যাপক ধস্তাধস্তি, লাঠালাঠি চলতে থাকে বলে খবর। এমনকী লাঠির মাথায় পেরেক লাগিয়ে হামলা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। এই সংঘর্ষে দুই পক্ষ মিলিয়ে প্রায় ৪০ জন কর্মী-সমর্থকদের অহত হওয়ার খবর সামনে এসেছে। একে-অন্যের উপর ইট-পাটকেল ছোঁড়া থেকে শুরু করে মারধরে জড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিজেপির অবশ্য দাবি, তাদের কর্মীদের উপরেই প্রথমে হামলা করা হয়। আত্মরক্ষার প্রেক্ষিতে প্রতিরোধ করা হয়েছে। এই ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত এলাকায় পৌঁছয় পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।


তাছাড়া জীবনতলা থানার বিশাল বাহিনী অশান্তির পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। যদিও এখনও এই অশান্তিকে কেন্দ্র করে থানায় কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে জানা যায়, বেশ কয়েকজনের আঘাত গুরুতর। স্থানীয় সূত্রে খবর, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাপা উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সংঘর্ষের নেপথ্যে ঠিক কারা প্রথম হামলা চালিয়েছিল সেটা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।