‘এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট’ অজয় পাল শর্মাকে নিয়ে বিতর্ক, ভোটের আগে নতুন রাজনৈতিক তরজা

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে প্রার্থীদের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন এক আইপিএস আধিকারিক— অজয় পাল শর্মা। উত্তরপ্রদেশের তথাকথিত ‘এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট’ হিসেবে পরিচিত এই আধিকারিককে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন। আর সেই নিয়োগ ঘিরেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক।

সম্প্রতি ফলতায় তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান-এর বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে অজয় পাল শর্মার হুঁশিয়ারিমূলক মন্তব্যের একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে বলে দাবি। যদিও ওই ভিডিয়োর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

মহুয়ার খোঁচা, নতুন বিতর্ক

এই আবহেই সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে কটাক্ষ করেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁর পোস্ট করা ভিডিয়োয় কিছু নর্তকীর সঙ্গে এক যুবককে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। সেই ব্যক্তিকেই অজয় পাল শর্মা বলে ইঙ্গিত করে তিনি মন্তব্য করেন, তাঁর পুলিশি দক্ষতা নাচের দক্ষতার চেয়ে ভালো কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন।


তবে এই ভিডিয়োর সত্যতাও যাচাই করা হয়নি।

ফলতা-কাণ্ডে উত্তেজনা

ভোটের দু’দিন আগে ফলতায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের অভিযানে নেতৃত্ব দেন অজয় পাল শর্মা। সেই সময় তাঁর আচরণ নিয়েই প্রশ্ন তোলে তৃণমূল। অভিযোগ, উপস্থিত স্থানীয়দের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান বলেন, কেউ ‘সিংহম’ হলে তাঁরাও ‘পুষ্পা’। তিনি স্পষ্ট জানান, কোনও পক্ষপাতমূলক আচরণের সামনে তাঁরা মাথা নত করবেন না।

রাজনৈতিক চাপানউতোর

এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। তাদের অভিযোগ, ভোটের আগে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতেই এমন একজন আধিকারিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে বিজেপির অমিত মালব্য পাল্টা দাবি করেছেন, আইন মেনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াই উদ্দেশ্য এবং কোনও ধরনের হুমকি বরদাস্ত করা হবে না।

কে এই অজয় পাল শর্মা

২০১১ সালের ব্যাচের এই আইপিএস আধিকারিক বর্তমানে প্রয়াগরাজে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হিসেবে কর্মরত। পঞ্জাবের লুধিয়ানায় জন্ম তাঁর। পটিয়ালার সরকারি মেডিক্যাল কলেজ থেকে ডেন্টাল সার্জারিতে পড়াশোনা করলেও পরে পুলিশ পরিষেবায় যোগ দেন।

নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত ১১ জন পুলিশ পর্যবেক্ষকের তালিকায় প্রথম নাম ছিল তাঁরই।

ভোটের আগে এই বিতর্ক নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।