আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও দপ্তরে বৃহস্পতিবার ভোরে হানা দেয় ইডি। বেআইনি কয়লা পাচার মামলায় তদন্ত বলে জানায় ইডি। তল্লাশি চলাকালীন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি এবং আইপ্যাকের অফিসে এসে নথি নিয়ে যান। তারপরই শুক্রবার তল্লাশির সময় কী কী ঘটেছিল তা নিয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়ে ইডির কাছে রিপোর্ট চেয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
শনিবারই বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠানো হল দিল্লিতে ইডির সদর দপ্তরে। সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আইপ্যাক দপ্তর এবং লাউডন স্ট্রিটে সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির যে আধিকারিকেরা তল্লাশি চালিয়েছেন, তাঁরা ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে একটি রিপোর্ট তৈরি করেছেন। সেটি দিল্লির দপ্তরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দপ্তরে রিপোর্টটি পাঠানো হতে পারে।
ইডি সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবারের ঘটনায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা, কলকাতা পুলিশের ভূমিকা এবং রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা বিশদে জানতে চেয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তার পরেই প্রত্যক্ষদর্শী আধিকারিকদের বয়ান-সহ রিপোর্ট প্রস্তুত করানো হয়েছে। যদিও সে দিন কী কী ঘটেছিল, তা এর আগে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছিল ইডি। কলকাতা হাইকোর্টে মামলার নথিতেও তার উল্লেখ রয়েছে। ইডির দাবি, তল্লাশি চলাকালীন জোর করে গুরুত্বপূর্ণ নথি কেড়ে নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
বেআইনি কয়লা পাচার মামলায় পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লির ১০টি জায়গায় বৃহস্পতিবার ইডির তল্লাশি অভিযান চালায়। তার মধ্যে কলকাতার দু’টি জায়গায় তদন্তে বাধার অভিযোগ তুলেছে ইডি। সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে মুখ্যমন্ত্রী তল্লাশি চলাকালীন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ছিনিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই হাইকোর্টে মামলা করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।
প্রতীকের বাড়ি থেকে তল্লাশির সময় একাধিক ডিজিটাল নথি সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে আদালতে জানিয়েছি ইডি। পুলিশ কমিশনারও ঘটনাস্থলে যান। তাঁর কাছে তল্লাশির বিষয়ে জানানো হয়েছিল। ইডির তরফে সকলের পরিচয়পত্র এবং তল্লাশির পরোয়ানা পুলিশকে দেখানো হয়েছিল। এরপর দুপুর ১২টা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যান। ইডির রিপোর্টে দাবি, ‘সমস্ত আইন ভেঙে ইডি আধিকারিক প্রশান্ত চান্ডিলার হাত থেকে মুখ্যমন্ত্রী জোর করে ডিজিটাল নথি কেড়ে নেন। ১২টা ১৫ মিনিট নাগাদ তিনি ঘটনাস্থল থেকে বেরিয়ে যান।’ এই বর্ণনাই দিল্লিতে রিপোর্ট আকারেও পাঠানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্য দিকে, পুলিশ সূত্রে খবর, সকাল ৯টা থেকে প্রতীকের বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল তারা। পুলিশকে সেখানে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। বাড়ির নীচে কোনও তল্লাশি পরোয়ানাও দেখানো হয়নি। এমন কী পরিচয়পত্রও দেখানো হয়নি। উল্টে পুলিশকে ধাক্কাধাক্কি করা হয়। এর পরেই সিপি এবং মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থলে যান। এই ঘটনায় তৃণমূলের তরফেও কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করা হয়েছে। পৃথক মামলা করেছে ইডি। দু’টি মামলার শুনানি ১৪ জানুয়ারি।