পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের খরা নিয়ে আগের সরকারকে দুষলেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। শুক্রবার বাঁকুড়ার মেজিয়ায় একটি স্টিল কারখানার নতুন ইউনিটের উদ্বোধনে গিয়ে ধুয়ে দিলেন প্রাক্তনদের। শিল্পায়ন, বিনিয়োগ এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের একটি অংশ ঘিরে রাজনৈতিক ও শিল্পমহলে ব্যাপক আলোচনার ঝড় শুরু হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। তিনিও প্রাক্তনদের তুলোধনা করেছেন। সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি খোঁচা দিয়েছেন।
রাজ্যে ভারী শিল্প নিয়ে আসতে না পারলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা যাবে না। আর কর্মসংস্থান বৃদ্ধি না হলে রাজ্যে থেকে যে যুবক-যুবতীরা ভিনরাজ্যে কাজ করতে চলে গিয়েছেন তাঁদের ফেরানো সম্ভব হবে না। এই বিষয়টি সামনে নিয়ে এসে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘আমি শিল্প ও বাণিজ্যের স্টার্টআপ মিনিস্টার। আমাকে কিছু দিয়ে যায়নি আগের সরকার বা তিন-তিনজন পূর্বসূরী। এমনটা তো হওয়ার কথা ছিল না! বাংলায় এমনটা হলো কেন? এই খরা কাটাতে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৬ ঘণ্টা কাজ করতে হবে আমাদের। পাঁচ বছরে আমরা যে কাজ করে দেখাব সেটা বাংলার মানুষ অনুভব করতে পারবেন।’
রাজ্যে পালাবদলের দশম সপ্তাহেই ভারী শিল্পের পথে প্রথম উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ বিজেপি সরকারের। একইসঙ্গে মিলল কর্মসংস্থানের দিশাও। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, কারখানা সম্প্রসারণের কাজ শেষ হলে ২০ হাজার লোকের চাকরি হবে। তবে শিল্পমন্ত্রী আগের সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে তোপ দাগেন, ‘এতদিন যত শিল্প সম্মেলন হয়েছে সব বোগাস। কিছুই করে যায়নি, কিছুই রেখে যাইনি। মনে হচ্ছে রাজ্যে আমিই স্টার্টআপ শিল্পমন্ত্রী। শুধু সম্মেলন আয়োজন করলেই শিল্পায়ন এগোয় না। প্রয়োজন বাস্তব বিনিয়োগ, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নিতে হয়। শিল্পের বিকাশের জন্য ঘোষণার চেয়ে বাস্তব পদক্ষেপ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
তাছাড়া গত সপ্তাহে হুগলির ডানকুনিতে একটি হোসিয়ারি সংস্থার কারখানার সম্প্রসারণ প্রকল্পের সূচনা হয়েছে। এবার মেজিয়ায় সম্প্রসারিত হতে চলেছে ইস্পাত শিল্প সংস্থার কারখানাও। ১৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগে এদিন এই সম্প্রসারণের কাজের ভূমিপুজো হয়। শিল্পমন্ত্রীর আশ্বাস, ‘এই সম্প্রসারণ হয়ে গেলে ৭৫ হাজার মানুষের অন্নসংস্থান হবে। নতুন উদ্যোগপতি এবং উদ্ভাবনী ব্যবসাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমি নিজেই বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছি। তাই মনে হচ্ছে রাজ্যে আমিই স্টার্টআপ শিল্পমন্ত্রী।’