আরজি করের নির্যাতিতার স্মরণে রবিবার রাজ্যের সব সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং প্রতিষ্ঠানে দু’মিনিট নীরবতা পালন করা হবে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুধু তা-ই নয়, নীরবতা পালনের আগে প্রদীপ জ্বালিয়ে নির্যাতিতাকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। সরকারি উদ্যোগে এই প্রথম আরজি করের নির্যাতিতাকে স্মরণ করা হবে। তৃণমূল জমানায় সরকারি ভাবে কোনও এমন কোনও কর্মসূচি করা হয়নি।
নির্যাতিতার মা পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক। রবিবার ওই কেন্দ্রে লোকসংস্কৃতি ভবনে নির্যাতিতার স্মরণে কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সেই কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যেরা। নির্য়াতিতার নামে তৈরি ট্রাস্টের ব্যানারেই কর্মসূচিটি হবে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ওই ট্রাস্ট ভবিষ্যতে কী কী কাজ করবে, তার আভাস পাওয়া যেতে পারে অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে।নির্যাতিতার মা পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক। রবিবার ওই কেন্দ্রে লোকসংস্কৃতি ভবনে নির্যাতিতার স্মরণে কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সেই কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যেরা। নির্য়াতিতার নামে তৈরি ট্রাস্টের ব্যানারেই কর্মসূচিটি হবে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ওই ট্রাস্ট ভবিষ্যতে কী কী কাজ করবে, তার আভাস পাওয়া যেতে পারে অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে।
আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসক-ছাত্রীর ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় এ বার পৃথক ভাবে তদন্ত করবে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। তদন্তের ফলাফল জানানো হবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-কে। শনিবার এ কথা জানালেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। সেই রাতে ঘটনার আগে ও পরে যাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন, তাঁদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। নির্যাতিতার অধ্যাপকদের সঙ্গেও কথা বলা হবে।
আরজি করের ঘটনার তদন্ত প্রথম শুরু করেছিল কলকাতা পুলিশ। তারাই মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে (বর্তমানে দোষী সাব্যস্ত এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত) গ্রেফতার করে। পরে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে ওই মামলার তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। তারা চার্জশিটে সঞ্জয়কেই একমাত্র অভিযুক্ত বলে উল্লেখ করে এবং শিয়ালদহ আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে আজীবন কারাবাসের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সিবিআই বা পুলিশের তদন্তে প্রথম থেকেই অসন্তুষ্ট ছিল নির্যাতিতার পরিবার। তারা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় এবং আদালত কেন্দ্রীয় সংস্থাকে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেয়। সেই অনুযায়ী নতুন বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছিল সিবিআই।
বৃহস্পতিবার সেই সিট হাই কোর্টে রিপোর্ট জমা করে। তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ। সিবিআইয়ের তদন্ত সঠিক পথে এগোচ্ছে না বলে মনে করছে হাই কোর্ট। আদালতের বক্তব্য, পুরনো তদন্তের দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে নতুন তদন্তকারী দলটিও।
২০২৪ সালের ৮ অগস্ট রাতে আরজি কর হাসপাতালে কয়েক জন সহকর্মীর সঙ্গে নির্যাতিতা রাতের খাবার খান। পরিবারের অভিযোগ, খাওয়ার সময় নির্যাতিতার সঙ্গে চার জন জুনিয়র ডাক্তার ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে হাসপাতালের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের যোগাযোগ ছিল। ওই চার জনকেই গ্রেফতার করে জেরার দাবি জানিয়েছে নির্যাতিতার পরিবার। জুনিয়র ডাক্তার সৌমিত্র রায়ের নাম করেন নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবী। দাবি, নির্যাতিতার সঙ্গে এই সৌমিত্র নৈশভোজ সেরেছিলেন। কিন্তু তাঁর বয়ানই রেকর্ড করা হয়নি। আইনজীবীর সওয়াল, ‘ঘটনার আগে কী হয়েছিল, তা তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে না। ওই দিন নির্যাতিতার সঙ্গে নৈশভোজে চার জন ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে সন্দীপ ঘোষের যোগ ছিল কি না, তদন্তে সেটা পাওয়া যাচ্ছে না? কেন তাঁদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না?’
সৌমিত্র-সহ জুনিয়র ডাক্তারদের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে কি না, ঘটনার পরের দিন সকালে কখন নির্যাতিতার মাকে হাসপাতালে ডাকা হয়, প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি ঘোষ। সিবিআই জানায়, নতুন করে সব অভিযোগ খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। দক্ষ অফিসারেরা কাজ করছেন। কিন্তু তার জন্য পর্যাপ্ত সময় দরকার। রাজ্যে পালাবদলের পরে এই অবস্থায় স্বাস্থ্য দফতরও তদন্ত শুরু করছে।