দু-তিন মাসের মধ্যেই জিটিএ নির্বাচন খুন হল তৃণমূল, আর তৃণমূলকেই গালাগালি: মমতা

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাঁচদিনের উত্তরবঙ্গ সফরে রয়েছেন। রবিবার শিলিগুড়ির একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি রামপুরহাট হিসেবে প্রসঙ্গে বলেন ‘খুন হয়েছে তৃণমূল, আগুন লাগাল তৃণমূল, আর জ্বর্ণমুলকেই গালাগালি দেওয়া হচ্ছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঁচ দিনের সফলে একগুচ্ছ কর্মসূচি রয়েছে সোমবার কাঞ্চনজঙ্গা স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠানে একাধিক সরকারি প্রকল্পের সূচনাও করতে পারেন মুখ এড়ার আওয়ার্ডের হামরো পার্টির সঙ্গে একটি বৈঠকে বসছে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।

তার আগে রবিবার শিলিগুড়ির একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই অনুষ্ঠানেই রামপুরহাট হিংসা প্রসঙ্গে বলেন, এখানে একটা ঘটনা ঘটেছে, খুন হয়েছে তৃণমূল, আগুন লাগালে তৃণমূল।


আর রাজনৈতিক দলগুলো তৃণমূলবেই গলগালি দিচ্ছে। পুলিশের ভুল ছিল। খুনের পর ওদের আশঙ্কা করা উচিত ছিল কিছু একটা হতে পারে। তাই ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

যাদের ক্ষতি তাদের এক লক্ষের জায়গায় দুদক্ষ করো নিয়েছি। এরই পাশাপাশি এদিন মুখ্যমন্ত্রী বিজেপি শাসিত অন্য রাজের ঘটনা তুলে ধরে মন্তব্য করেন, হতরাসে, লখিমপুর, অসমের এনপিআর নিয়ে মানুষ মারা গেছেন, তখন মিবিয়াই কোথায় কোথায় কির।

ত্রিপুরা অসম দিল্লির হিংসার আমাদের প্রতিনিধি ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আর এখানে আমি হাতে যেতে না পারি তাই সকাল-বিকেল সেজে টিভিতে চলে যাচ্ছে।

এলাকায় গভোগেল যাতে না হয় তা দেখতে হবে। নাম আর মুখে কালি লাগিয়ে সিপিএম কংগ্রেস বিজেপি মিছিল করবে। আর সিপিএম কংগ্রেস, বিজেপি তোফা হয়ে সোফায় বসে থাকবে।

এদিন শুধু এই বলেই থেমে থাকেননি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি কেন্দ্রে দিকে আঙ্গুল তুলে বলেছেন, আমি যখন রেলমন্ত্রী ছিলাম তখন রোজ ট্রেনের লাইন কাটা হত, আরশোলা খোঁজা হতো।

এখন সব কোথায় খেল এলিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণ মানুষদের আরও বলেন। সাধারণ মানুষ নজর রাখুন। কিছু খারাপ জিনিস দেখলেই পুলিশকে জানান।

পুলিশ ব্যবস্থা না নিলে তার বিরুদ্ধে আমি অ্যাকশন নেব। কোনও নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে ফোন করবেন। দু মাস সময় দেব। সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকশন নেব।’

এরপর এদিন রামপুরহাট নিয়ে তিনি ফের জানান রামপুরহাটে বড় ষড়যন্ত্র করা হয়েছে তদন্ত হোক।’ তবে একইসঙ্গে তদন্তের প্রহসন তুলে ধরেন মমতা।

বলেন, ‘নোবেল প্রাইজ খোয়া যাওয়া নিয়ে আজও পর্যন্ত বিচার নেই নন্দীগ্রাম-নেতাইয়ে আজও সিবিআই কিছু করেনি। তাপসী মালিক খুনে সিবিআই আজও বিচার করতে পারেনি বরং সিটি তদন্তে অনেকদূর এগিয়ে ছিল।

এদিন সংবাদমাধ্যমের প্রতি উষ্মা প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন কোনও কোনও চ্যানেল ব্যবসার জন্য স্মিভব রক্ত দেখিয়ে যাবে শুধু, টিআরপি বাড়ানোর জন্য তাতে বাচ্চাদের মনে কি প্রভাব পড়ছে ভাবে না। টিআরপি’র আগুনে নিজেরাই পুড়ে যাবে। মানুষের মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে।

এরই পাশাপাশি মমতা এদিন দাবি করেন, ‘রানপুরহাটে এই অশান্তি ইচ্ছাকৃত, এটা করা হচ্ছে যাতে দেউটা পাচামিয়া কাজ আটকে দেওয়া যায় জিটিএ ও পঞ্চায়েত ভোটের দামামা বাজিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

রবিবার শিলিগুড়ির গোঁসাইপুরে সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন করতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমি চাই, আগামী মে-জুনের মধ্যেই জিটিএ নির্বাচন হোক।

আমি সেই কাজে তদারকি করাতেই এখানে এসেছি। তিনদিন থাকব। পাহাড়ের দলগুলির সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।

তাঁর এই বক্তব্যের পরই কার্যত ব্যস্ততা শুরু হয় গিয়েছে গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে।

ফেব্রুয়ারির মাঝামানিতে নবান্নের তরফে পাহাড়ের নেতাদের কাছে জিটিএ নির্বাচন নিয়ে সবুজ সংকেত পৌঁছেছিল রাজ্যের ১০৮ টি পুরসভার ভোট করানোর পরই জিটিএ’তে ভোট করানোর পদক্ষেপ নেবে বলে জানায় সরকার।

জানা গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাহাড়ের রাজনৈতিক দলগুলিকে ব্যক্তিগত ভরে সেই উদ্যোগ নিতে বলে দিয়েছিলেন।

এই ভোটপর্ব মিটলে পাহাড়ে পঞ্চায়েত নির্বাচন করানোর তোড়জোড় শুরু হবে বলে রবিবার শিলিগুড়ির জনসভায় জানান।

এদিন পাহাড়ের তিন জেলায় মোট ১১টি প্রকল্পের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী যার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১১০ কোটি টাকা মুখ্যমন্ত্রী জানান, আইনি জটিলতার জন্য পাহাড়ে জমির পাটা বিলি করা যায়নি এতদিন। এবারের সফরে তিনি তা বিলি করবেন।

প্রসঙ্গত, জিটিএ’তে দীর্ঘদিন ভোট না হওয়া নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক মহলে ক্ষোভ ছিল। এমনকি জিটিএর অডিট নিয়ে একাধিকবার দাবি তুলেছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়।

পাহাড়ের উন্নয়নের পরিকল্পনায় ২০১৭ সালে দার্জিলিং থেকে আলাদা করে বালিম্পংকে আলাদা জেলার মর্যাদা দেওয়া হয়। জিটিএ অর্থাৎ গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের আওতায় রাখা হয় তাকে।

কিন্তু জিটিএ’র আওতা থেকে কোনও উন্নতিই হয়নি বলে অভিযোগ করে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন কালিম্পংয়ের বিধায়ক রুদেন লেপচা। তিনি জানান পৃথক জেলা তৈরি পর উন্নয়ন নিয়ে অনেক আশা ছিল।

কিন্তু গত ৫ বছরে তারা আশাহত হয়েছেন। তাই জিটিএ তে আর থাকতে চায় না কালিম্পং। বরং জেলা পরিষদ গঠনকরে উন্নয়নে জোর দেওয়া হোক।

সূত্রের খবর এবারের সফরে পাহাড়ের রাজনৈতিক দল হামরো পার্টির সঙ্গে আলোচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী আত্মপ্রকাশের পরই এই নলটিই দাি পুরসভার ক্ষমতা দখল করেছে।