প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে রমরমিয়ে চলছে অবৈধ কোয়াজ পাথর পাচার

প্রশাসনের নজর এড়িয়ে পুরনো কায়দাতেই রমরমিয়ে চলছে কোয়াজ (সাদা পাথর) পাথরের বেআইনি কারবার। আর এই অবৈধ খননের জেরে ক্রমশ অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়ছে মাইথন জলাধার। অভিযোগের তির শাহীদ আনসারি নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তার দলবলের দিকে।

 

বৃন্দাবনী ও মেজলাডির গ্রামবাসীদের অভিযোগ, প্রতিদিন একটু একটু করে মাইথন জলাধারের পার ঘেঁষে মাটি খুঁড়ে তুলে নেওয়া হচ্ছে এই মূল্যবান সাদা পাথর। শুধু স্থলপথেই নয়, প্রশাসনের চোখকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নৌকা করে ঝাড়খণ্ড থেকেও নদীপথে নিয়ে আসা হচ্ছে বিপুল পরিমাণ কোয়াজ পাথর। এরপর সেই পাথর ডাম্পার ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে পাচার করে দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন নামী-দামী কারখানায়।


 

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, দরিদ্র মানুষদের জন্য সরকারের দেওয়া ‘পাট্টা জমি’কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে এই পাথর মাফিয়ারা। গ্রামবাসীদের দাবি, সরকারি পাট্টা জমির উপরই অবৈধভাবে পাথর স্তূপাকার করে রাখা হচ্ছে এবং সেখান থেকেই চলছে পাচারের মূল চক্র। মাঝখানে কিছুদিন এই বেআইনি কাজ বন্ধ থাকলেও, সম্প্রতি শাহীদ আনসারি নামক ওই ব্যক্তি পুনরায় পুরো সিন্ডিকেটটিকে সক্রিয় করে তুলেছে।

 

গ্রামবাসীদের ক্ষোভ  ‘আমাদের চোখের সামনে মাইথন জলাধারের ক্ষতি করা হচ্ছে, সরকারি জমি দখল করে কালো ব্যবসা চলছে। কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর শহীদ আবার এই সিন্ডিকেট চালু করল। সব দেখেও পুলিশ কেন নিশ্চুপ? তাদের ভূমিকা নিয়ে আমরা স্তম্ভিত।‘

 

গ্রামবাসীদের দাবি, অবিলম্বে পুলিশ ও ভূমি রাজস্ব দপ্তর (BLRO) এই অবৈধ কারবার বন্ধ করুক এবং মাইথন জলাধারকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করুক। না হলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।