৩টে ভোট দিলে ২টো বিজেপি, ১টা যাবে তৃণমূলে

দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের দিন ইভিএমকে ঘিরে বড়সড় সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট দিয়ে বেরিয়েই তিনি ইভিএমে কারচুপির আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। যদিও একইসঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, এদিন মোটের উপর ভালো ভোট হচ্ছে।

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, ইভিএমে কোনও কারচুপি হচ্ছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তাঁর কাছে একটি ফোন এসেছিল বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘আমার কাছে এমন ফোন এসেছিল। সেখানে বলেছিল ৫০টা ভোটের পরে ৩টে করে ভোট দিলে ২টো যাবে বিজেপিতে, ১টা যাবে তৃণমূলে। আপনি রফা করতে চাইলে করে নিন।’ বিষয়টি তিনি গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন এবং মুখ্যমন্ত্রীকেও জানিয়েছেন।

ইভিএম নিয়ে তাঁর সন্দেহের কারণ হিসেবে তিনি প্রধানমন্ত্রীর আত্মবিশ্বাসী মন্তব্যের প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন। তাঁর মতে, ‘শপথগ্রহণে আসব’ এই ধরনের আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য শোনা গেলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে। সেই কারণেই তিনি আবার কাগজের ব্যালটে ফেরার পক্ষে মত দেন।


শুধু ইভিএম নয়, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না। বরং বিজেপির স্বার্থে কাজ করছে। তিনি বলেছেন, এতবার নির্বাচনে অংশ নিয়েও এরকম নির্বাচন কমিশন আগে দেখেননি। তাঁর মতে, কমিশন যেন বিজেপির একটি ফ্রন্টাল সংগঠনের মতো আচরণ করছে।

অন্যদিকে, এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র বিমল শঙ্কর নন্দ পাল্টা কটাক্ষ করে বলেছেন, একজন অভিজ্ঞ সাংসদের মুখে এ ধরনের মন্তব্য আসলে তাঁদের আশঙ্কারই প্রতিফলন। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশন আগেই চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল ইভিএমে কারচুপি সম্ভব কিনা তা প্রমাণ করার জন্য। কিন্তু তৃণমূল সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেনি। তিনি আরও বলেছেন, তৃণমূল বুঝতে পারছে তারা কঠিন পরিস্থিতির মুখে রয়েছে, তাই এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তাঁর মতে, ভোটের ফলাফল ঘনিয়ে আসতেই বিরোধীদের এই ধরনের বক্তব্য আরও বাড়বে।