আইসিএমআর-এর ডিরেক্টর জেনারেল হিসেবে রাজীব বহেল জানান, নিপা ভাইরাস অত্যন্ত সংক্রামক এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। অতীতে ২০০১ ও ২০০৭ সালে সংক্রমণের নজির থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আক্রান্তের সংখ্যা সীমিত ছিল। কেরল এবং পশ্চিমবঙ্গ দু’জায়গাতেই অতীতে সংক্রমণ দেখা গিয়েছিল। বিশেষ করে ২০০৭ সালে পশ্চিমবঙ্গে তুলনামূলক বেশি সংক্রমণ হলেও সে সময় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছিল। তাঁর মতে, প্রশাসনের তৎপরতা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার সমন্বিত উদ্যোগ সেই সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল।
রাজীব বহেল আরও জানান, দেশের বিভিন্ন রাজ্য যেমন উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ছত্তিসগড়, কেরল এবং পশ্চিমবঙ্গে বাদুড়ের মধ্যে নিপা ভাইরাসের উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে। ফলে ভাইরাসটির উৎস সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। তবে শুরু থেকেই নজরদারি, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং আইসোলেশন ব্যবস্থা নিলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
সম্প্রতি রাজ্যে দু’জন নার্স নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হন। তাঁদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বারাসতের একটি হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং পরে তাঁর ফুসফুসে সেকেন্ডারি সংক্রমণ ধরা পড়ে। অন্য আক্রান্ত নার্সের চিকিৎসাও একই হাসপাতালে চলেছে। এই ঘটনাকে সামনে রেখে স্বাস্থ্য দপ্তর দ্রুত কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং শুরু করে। আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা প্রত্যেককে চিহ্নিত করে তাঁদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই সকল পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে এবং নতুন করে সংক্রমণের খবর মেলেনি।
এদিন রাজীব বহাল স্পষ্ট জানান, অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, সন্দেহজনক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলাই সঠিক পথ। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে যে সতর্কতা নেওয়া হয়েছে, তা ভবিষ্যতেও বজায় থাকলে নিপা সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব বলেই মত তাঁর।