মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই কাজ করেছি, শােকজের জবাব দিলেন আলাপন 

আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। (Photo: indianbureaucracy.com)

বৃহস্পতিবার ছিল কেন্দ্রের পাঠানাে শােকজের জবাব দেওয়ার শেষ দিন। সেইমতাে এদিনই কেন্দ্রীয় সরকারকে জবাবী চিঠি দিলেন সদ্য প্রাক্তন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সন্ধেলাে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তিনি ইমেল মারফত এই চিঠির জবাব দেন আলাপনবাবু। 

এদিন রাজ্যের তরফে কেন্দ্রকে চিঠি পাঠিয়েছেন বর্তমান মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। নবান্ন সূত্রে খবর, এই চিঠিতে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন ২৭ মে, শুক্রবার, কলাইকুণ্ডা বৈঠকে তার অনুপস্থিতি সংক্রান্ত বিতর্কের পয়েন্ট অনুযায়ী ব্যাখ্যা দেন। এদিনের চিঠির ভাষা যথেষ্ট কঠোর। 

মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, সাগরে কুড়ি মিনিট কপ্টার অপেক্ষা করিয়ে রাখা হয়েছিল। সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে উপস্থিত হতে দেরি হয়েছিল। সেদিন কলাইকুণ্ডার বৈঠক ছেড়ে দিঘায় প্রশাসনিক বৈঠকে যাওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী তাদের দু’জনের জন্যই অনুমতি চেয়েছিলেন। রাজ্যের মুখ্যসচিব হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে চলাই তাঁর কর্তব্য। মুখ্যমন্ত্রী চেয়েছিলেন, মুখ্যসচিব দিঘার প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত থাকুন। এইজন্যই তিনি তার সঙ্গে যান। 


নবান্ন সূত্রে খবর, আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠিতে লিখেছেন, শুক্রবার ২৭ মে, সকাল থেকেই আকাশপথে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির পর্যালােচনায় গিয়েছিলাম। হিঙ্গলগঞ্জের পরে দক্ষিণ চৰ্বিশ পরগণার সাগরেও প্রশাসনিক বৈঠকেও অংশ নিয়েছি। এরপর প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু কপ্টার ওড়ার অনুমতি না মেলায় অপেক্ষা করতে হয় কুড়ি মিনিট। এই কারণেই প্রধানমন্ত্রীর পর্যালােচনা বৈঠকে পৌছতে দেরি হয়।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে অনুপস্থিত থাকার জন্যই বিপর্যয় মােকাবিলা আইনের ৫১ (বি) ধারা লঙ্ঘন করেছেন বলে শাে-কজ করা হয়েছে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এর উত্তরে বৃহস্পতিবার আলাপনবাবু জানিয়েছেন, দিঘায় মুখ্যমন্ত্রীর পূর্ব নির্ধারিত বৈঠক ছিল। মুখ্যমন্ত্রী চেয়েছিলেন, সেই প্রশাসনিক বৈঠকে আলাপনবাবু উপস্থিত থাকুন। তাই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যাই। 

এক কথায়, আলাপনবাবু এদিন তার প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে অনুপস্থিতির বিষয়টি পুরােটাই মুখ্যমন্ত্রীর ওপরেই চাপিয়েছেন। এবং সেটা মুখ্যমন্ত্রীর জ্ঞাতসারেই হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।