ভোটমুখী বঙ্গে রাজনৈতিক পারদ ক্রমশই চড়ছে। আর এর মধ্যেই ফের বঙ্গ সফরে এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তবে তাঁর এবারের বঙ্গ সফরকে রাজনৈতিক সফর বলতে নারাজ পদ্মশিবির। এদিন ভক্তি আন্দোলনের প্রাণপুরুষ শ্রীচৈতন্য দেবের ভূমি মায়াপুরে যান অমিত শাহ। সেখান থেকে তাঁর মুখে শোনা গেল কৃষ্ণপ্রেমের কথা, ভক্তিবাদের কথা। শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের ১২৫তম জন্মোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নয়, চৈতন্য মহাপ্রভুর ভক্ত হিসেবে এসেছি।‘
মায়াপুরে পৌঁছে প্রথমে মন্দিরে পুজো দেন শাহ। তারপর ‘হরেকৃষ্ণ’ ধ্বনি দিয়ে বক্তব্য শুরু করেন। তিনি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর ভক্তি আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, চৈতন্যদেবের প্রচারিত ভাবধারা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় আধ ঘণ্টা বক্তব্য রাখেন অমিত শাহ। সেই বক্তব্যে কোনও রাজনৈতিক কথা শোনা যায়নি। তিনি বলেন, ‘আমি এখানে আসার আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি আপনাদের সবাইকে হরে কৃষ্ণ বলেছেন।’ একই সঙ্গে শাহ বলেন, এ দিনের অনুষ্ঠানে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নয়, এসেছেন চৈতন্য মহাপ্রভুর ভক্ত হিসেবে।
ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের ব্যাখ্যা, এই সফর নিছক ধর্মীয় নয়; বরং সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক পদক্ষেপ। বাংলায় বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই সাংস্কৃতিক-ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে ভোটের মেরুকরণ ঘটানোর কৌশল নিয়েছে। মায়াপুর আন্তর্জাতিকভাবে বৈষ্ণব তীর্থক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। সেখানে উপস্থিত হয়ে নিজেকে ‘ভক্ত’ হিসেবে তুলে ধরা—একে অনেকেই হিন্দুত্বের রাজনৈতিক বার্তাকে আরও দৃঢ় করার প্রয়াস বলেই মনে করছেন। বিশেষ করে ভোটের আগে এই সফরকে প্রতীকী শক্তি প্রদর্শন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে বিরোধীরা এই পদক্ষেপকে সরাসরি নির্বাচনী কৌশল বলেই দাবি করছে। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র কটাক্ষ করে বলেছেন, নির্বাচনের আগে ধর্মীয় সফরের সময়কাল নিয়ে প্রশ্ন তোলাই স্বাভাবিক। তাঁর বক্তব্য, ধর্মীয় স্থান পরিদর্শন ব্যক্তিগত বিষয় হলেও, যখন তা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রকাশ্যে আসে, তখন তার উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা হবেই।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপি একদিকে উন্নয়ন ও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের প্রচার চালালেও, অন্যদিকে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় আবেগকে সমান্তরালভাবে কাজে লাগাচ্ছে। মায়াপুর সফর সেই বৃহত্তর কৌশলের অংশ হতে পারে। ফলত স্পষ্ট, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ধর্ম ও রাজনীতির সমীকরণ আরও জোরালো হতে চলেছে, আর সেই সমীকরণেই মায়াপুর সফর গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।