দ্বিতীয় দফার ভোটকে ঘিরে অশান্তির আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় বুধবার সকাল থেকেই ভবানীপুরে সরাসরি মাঠে নামেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি নিজেই একাধিক বুথ পরিদর্শন করেন। চেতলা ও চক্রবেড়িয়ার বিভিন্ন কেন্দ্রে ঘুরে ভোটের পরিবেশ খতিয়ে দেখেন তৃণমূল নেত্রী।
চক্রবেড়িয়ার একটি বুথে বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান করেন তিনি। সেখান থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তোলেন। নিজের প্রশাসনিক অবস্থান উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, আমি কিন্তু এখনও চেয়ারে আছি।‘ তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল, পরিস্থিতি নিয়ে তিনি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন এবং সরাসরি নজরদারি চালাচ্ছেন।
মঙ্গলবার রাত থেকেই কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর তল্লাশির খবর সামনে আসে। এদিন সকালে সেই প্রসঙ্গেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। তিনি ভবানীপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর অসীম বসুর বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনার খোঁজখবর নেন। পরে অসীম বসুর কার্যালয়ে বসে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন।
মমতার অভিযোগ, গভীর রাতে বাহিনী অসীম বসুর বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারকে ভয় দেখায়। তখন তাঁর স্ত্রী ও সন্তান বাড়িতে একা ছিলেন। এমনকি মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মমতা প্রশ্ন তোলেন, এভাবে কি গণতান্ত্রিক পরিবেশে ভোট সম্ভব? তাঁর কথায়, ‘আমাদের কর্মীরা মৃত্যুবরণ করবে, তবু মাথানত করবে না।‘
নিজের মোবাইলে কিছু ছবি দেখিয়ে তিনি দাবি করেন, দলের কর্মীদের উপর অত্যাচার করা হয়েছে। তাঁর মতে, এটি গণতন্ত্রের পরিপন্থী এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাসেরই উদাহরণ। একই সময় ওই বুথে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীও উপস্থিত হন, যদিও তিনি কিছু দূরত্ব বজায় রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে চলে যান। পুরো ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়।