বৌদির সঙ্গে দেওরের পরকীয়া। সেটা জানাজানি হয়ে যায়। আর তা নিয়ে চরমে ওঠে পারিবারিক অশান্তি। কিন্তু সংসারে অশান্তি হলেও বৌদিকে ছেড়ে দিতে পারবে না ওই ব্যক্তি। তাতে অশান্তি আরও চরমে ওঠে। স্ত্রীর সঙ্গে প্রায় রোজ ঝগড়া, ঝামেলা লেগেই ছিল। এই পরিস্থিতিতে স্ত্রীকে নৃশংসভাবে খুন করল স্বামী বলে অভিযোগ। এই বৌদির সঙ্গে প্রেম তথা পরকীয়া বজায় রাখতে রীতিমতো ছুরি দিয়ে স্ত্রীর গলা কেটে শোয়ার ঘরের খাটের তলায় ফেলে দিল স্বামী বলে অভিযোগ। এই হাড়হিম ঘটনা সামনে আসতেই পরে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলো অভিযুক্ত স্বামী। এই ঘটনায় আলোড়ন পড়ে গিয়েছে মালদহের ইংরেজবাজারের সাট্টারি এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত বধূর নাম শীলা বিবি (২৫)।শুক্রবার দুপুরে ঘর থেকে তাঁর রক্তাক্ত এবং নিথর দেহ উদ্ধার হয়েছে। স্ত্রীর কাছে ধরা পড়ে গিয়ে স্বামী বলেছিলেন, কোনওভাবেই সে বৌদিকে ছাড়তে পারবে না। বৌদির কাছেই সে সুখ পায়। এই সম্পর্ক মেনে নিতে না পারলে সংসার ছেড়ে চলে যেতে পারে। স্ত্রীকে এই কথা বলার পর থেকে সম্পর্কের আরও অবনতি হয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে রীতিমতো কুকথা ব্যবহার শুরু হয়েছিল। এই অশান্তি থেকে রেহাই পেতে এবং পরকীয়া সম্পর্ক চালিয়ে যেতে নিজের স্ত্রীকে নৃশংসভাবে খুন করে স্বামী মোজাম্মিল মোমিন।
শীলা বিবির বাপেরবাড়ি মালদহের মানিকচকে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, সকালে তাঁরা ফোন পান শীলা মারা গিয়েছেন। কেমন করে এবং কী কারণে মৃত্যু হলো সেটা প্রথমে বলা হয়নি। খবর পেয়ে ইংরেজবাজার যান কয়েকজন সদস্য। বাপেরবাড়ির সূত্রে খবর, আট বছর আগে শীলার বিয়ে হয়েছিল ইংরেজবাজারে। স্বামী মোজাম্মিল মোমিনের সঙ্গে। সে পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক। দম্পতির দুই নাবালক পুত্রসন্তানও আছে। কিন্তু ফ্যান্সি বিবি নামে শীলার এক আত্মীয়া জানান, ‘ওদের কোনও সমস্যা ছিল না। সব কিছু ভালই চলছিল। কদিন আগে মোজাম্মিলের সঙ্গে তার বৌদির অবৈধ সম্পর্ক ধরে ফেলে শীলা। তখন থেকেই অশান্তি শুরু হয়েছিল। আর তাই শীলাকে খুনই করে দিল স্বামী।’
মোজাম্মিলের পরিবার এই অবৈধ সম্পর্কের কথা জানত বলে অভিযোগ। বৌদির সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়েছিল। বৃহস্পতিবার রাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মোজাম্মিল স্ত্রীর গলা কেটে ফেলে বলে অভিযোগ। শুক্রবার দুপুরে মোজাম্মিলদের বাড়িতে যায় পুলিশ। স্বামী এবং তাঁর বৌদিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইংরেজবাজার থানার পুলিশ সূত্রে খবর, ওই বধূকে ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে খুন করা হয়েছে। তবে কার হাতে খুন হয়েছে শীলা সেটা নিয়ে তদন্ত হচ্ছে। মৃত বধূর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।