স্ত্রীর সঙ্গে যুবকের পরকীয়া চলছিল বেশ কিছুদিন ধরে। স্বামী যখন বাড়ি থাকেন না তখন ডেকে আনা হয় প্রেমিককে। তারপর একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়া থেকে শুরু করে মাঝেমধ্যে ঘুরতেও যেতেন তাঁরা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, কেউ কাউকে ছাড়া থাকতে পারছিলেন না। এই পরিস্থিতিতে স্ত্রী ধরা পড়ে যায়। তখন নিজের সংসার বাঁচাতে স্বামীর সঙ্গে পরিকল্পনা করে স্ত্রী তাঁদের বাড়িতে যুবককে ডেকে পাঠায়। তারপর তাঁকে কুপিয়ে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদে অভিযুক্ত স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্ত্রীকে নিজেদের বিছানায় সহবাসরত অবস্থায় দেখে ফেলেন স্বামী। ওই যুবকের সঙ্গে এমন অবস্থায় দেখে নতুন পরিকল্পনা করেন স্বামী। স্ত্রীকে ভয় দেখান ওই স্বামী। আর নির্দেশ দেন, ওই যুবককে বাড়িতে ডেকে আনতে। তাহলেই এই পরকীয়ার জন্য ক্ষমা করে দেওয়া হবে। স্বামীর কথায় ওই প্রেমিককে ডেকে পাঠানো হয়। তখন স্বামী লুকিয়ে ছিলেন। ওই যুবক বধূ প্রেমিকার কথায় বিশ্বাস করে বাড়িতে যেতেই তাঁকে খুন করা হয়। তাতে স্ত্রী হাত লাগিয়েছিল বলে অভিযোগ। এই কথা জানাজানি হতেই খবর যায় পুলিশে। আর স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত যুবকের নাম গোপালঋষি দাস। তিনি হাসনাবাদের আমলানী গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা। পেশায় ডেকোরেটার্স ব্যবসায়ী। ওই পঞ্চায়েতেরই হরিপুর দাসপাড়া এলাকার বাসিন্দা কাশিনাথ দাসের স্ত্রী কামনা দাসের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক তৈরি হয় গোপালের। তারপর থেকে বেশ কয়েকমাস ধরে তাঁরা এই সম্পর্কে ছিলেন। গোপনে চলছিল নানা কীর্তিও। মাঝে মধ্যেই কাশীনাথের অনুপস্থিতিতে বাড়িতে যেতেন গোপালঋষি। বেশ কয়েকবার কামনার সঙ্গে যুবককে আপত্তিকর অবস্থাতেও দেখা গিয়েছে। কাশীনাথ তাঁর স্ত্রী এবং ওই যুবককে সতর্কও করেছিলেন। কিন্তু তাঁরা একে অন্যকে ছাড়া থাকতে পারছিলেন না। স্বামীর কথা শোনেননি বধূ কামনা। এই ঘটনা নিয়ে দম্পতির মধ্যে পারিবারিক অশান্তি বাড়তে থাকে।
তাছাড়া গতকাল বেশি রাতে কাশীনাথের স্ত্রী কামনা গোপালঋষিকে নিজের বাড়িতে ডাকেন। অন্যান্য দিনের মতো প্রেমিক চলেও যান প্রেমিকা বধূর কাছে। গোপাল সেখানে পৌঁছতেই তার উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান কাশীনাথ বলে অভিযোগ। যুবকের মাথায় পর পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ মারা হয়! গুরুতর জখম হন গোপালঋষি। আর ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। তবে ওই যুবকের চিৎকার শুনে ছুটে যান স্থানীয় বাসিন্দারা। যুবককে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন তাঁরা। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। কাশীনাথ ও তাঁর স্ত্রী কামনাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।