আগামী ৬ অক্টোবর রেজিনগর এবং নন্দীগ্রাম বিধানসভার উপনির্বাচন। এই রেজিনগর থেকে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জিতেছিলেন হুমায়ুন কবীর। আরও একটি আসন জিতেছিলেন। সেটি হল-নওদা। এই নওদা আসন নিজের হাতে রেখে রেজিনগর ছেড়ে দেওয়াতেই এই উপনির্বাচন। কিন্তু তার আগেই হুমায়ুন খেলেন জোর ধাক্কা। পুলিশ গ্রেপ্তার করল হুমায়ুন কবীরের দল ‘আমজনতা উন্নয়ন পার্টি’র রাজ্য সম্পাদক তথা ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে বহরমপুর কেন্দ্রে হুমায়ুনের দলের প্রার্থী আশিক ইকবালকে। এবার হুমায়ুনের ছেলেকে প্রার্থী করা হয়েছে রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে। হুমায়ুনের ছেলের হয়ে প্রচার করার কথা ছিল আশিক ইকবালের বলে সূত্রের খবর।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে হরিহরপাড়া থানার পুলিশ ভাকুড়ি-আমতলা রাজ্য সড়কের উপর নাকা তল্লাশি চালাচ্ছিল। আর তখনই একটি স্করপিও গাড়ি আটক করে তল্লাশি চালাতে গিয়ে একটি ব্যাগের মধ্যে দুটি ৩০৩ বোরের পিস্তল, ৪ রাউন্ড গুলি, ৫০০ টাকার ১০৮টি ভারতীয় জাল নোট উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে ওই গাড়ির দুই আরোহী বাবলু শেখ এবং সুখবর মোল্লা ওরফে আশিক ইকবালকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। উপনির্বাচনে জিততে এইসব ব্যবহার করা হতো বলে অনুমান পুলিশের।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতরা জেরায় জানিয়েছে গাড়িতে তাদের সঙ্গে মাইনুল শেখ এবং হাবিবুর রহমান ওরফে বাচ্চু নাম আরও দুই ব্যক্তি ছিল। যদিও রাস্তায় পুলিশ গাড়ি দেখেই তারা এলাকা থেকে চম্পট দেয়। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৭৯/১৮০ এবং ২৫(১)(এ), ২৯, ৩৫ অস্ত্র আইনের ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ধৃতদের ৭ দিনের পুলিশ হেপাজতের আবেদন করে শনিবার তাদের বহরমপুর আদালতে পেশ করা হয়েছে। এই বিষয়ে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী তথা হুমায়ুন-পুত্র গোলাম নবী আজাদ রবিন বলেন, ‘আমি শুনেছি শুক্রবার রাতে পুলিশ আমাদের দলের রাজ্য সম্পাদককে গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু কী কারণে এই গ্রেপ্তার এখনও আমরা জানি না।’
তাছাড়া তোলাবাজি করার অভিযোগে গত রবিবার রাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বেলডাঙা-১ ব্লক সভাপতি মোনায়েম বিশ্বাস। এবার গ্রেপ্তার হল রাজ্য সম্পাদক। তবে গোটা বিষয়টি নিয়ে হুমায়ুন পুত্র সাফাই দিয়েছেন, ‘পুলিশ সন্ত্রাস করার প্রতিবাদেই আমার বাবা শক্তিপুর থানার সামনে ধর্নায় বসেছিলেন। ওই দিন রাত ১২টা নাগাদ আমার বাবাকে আকবর শেখ নামে প্রসাদপুরের এক বাসিন্দা চা খাইয়েছিলেন। এই ‘অপরাধে’ গতকাল পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল। যদিও পরে ওই ব্যক্তি জামিন পেয়েছেন। রেজিনগর বিধানসভার নানা এলাকায় আমাদের দলের কর্মীদের হয়রানি বিন্দুমাত্র বন্ধ হয়নি। সমস্ত প্রতিকূলতা সত্বেও আমরা নির্বাচনের ময়দান ছেড়ে যাব না।’