শাড়ির স্তূপের নীচে হাওড়ায় তৃণমূল নেতা, কাটমানি’ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার

শাড়ির স্তূপ। একঝলকে দেখলে মনে হবে মেঝেতে সাজিয়ে রাখা আছে শাড়িগুলি। শাড়ি ব্যবসায়ীর বাড়িতে এই দৃশ্য দেখা যায়। হাওড়ার আমতার গোডাউনে এভাবে শাড়ি জড়ো করা ছিল। সেই শাড়ির নীচেই গা ঢাকা দিয়ে লুকিয়ে ছিলেন যুব তৃণমূল নেতা ব্রহ্মানন্দ চক্রবর্তী। পুলিশের চোখে ধুলো দিতে এই উপায় নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। রবিবার দীর্ঘক্ষণ ‘লুকোচুরি’ খেলার পর অবশেষে গ্রেপ্তার হন ওই তৃণমূল নেতা। পুলিশ সেই শাড়ির স্তূপ সরাতেই বেরিয়ে পড়লেন তিনি।

এদিকে এই তৃণমূল নেতা বেরিয়ে পড়তেই তাঁকে আটক করা হয়। পরে আমতা থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। আমতায় ‘তন্তুজ’ কাপড়ের গোডাউন স্থানীয় বাসিন্দারা ঘিরে ফেলেন। তাঁদের মনে হয়েছিল, এই গোডাউনে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা লুকিয়ে আছেন। তখন তাঁরা পুলিশে খবর দেন। আমতা থানার পুলিশ গোডাউনের ভিতরে ব্রহ্মানন্দকে খুঁজতে শুরু করেও প্রথমে পায়নি। কারণ শাড়ির স্তুপের নীচে লুকিয়ে ছিলেন ওই নেতা। স্থানীয়দের অভিযোগ, আবাস প্রকল্পের টাকা থেকে ব্রহ্মানন্দ কাটমানি আদায় করেছিলেন। তাই স্থানীয়দের একাংশ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তখন থেকেই পুলিশ তাঁর খোঁজ করছিল।

অন্যদিকে এই কাজের জন্যই কাপড়ের দোকানের গুদামে গিয়ে শাড়ির স্তূপের নীচে লুকিয়ে পড়েন। কিন্তু শেষে ওই শাড়ির গুদামে তল্লাশি চালিয়েই পুলিশ তাঁকে সেখান থেকে গ্রেপ্তার করে। আর হাতেনাতে ধরা পড়েন ব্রহ্মানন্দ। উদয়নারায়ণপুরের বসন্তপুরের তৃণমূল যুব নেতা ব্রহ্মানন্দ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অনেকদিন ধরেই তোলাবাজি, দাদাগিরি-সহ নানা অভিযোগ ছিল। ২০২১ সালে ভোট পরবর্তী হিংসায় তাঁর নাম জড়িয়ে ছিল। রাজ্যে পালাবদলের পরে নানা জায়গায় তৃণমূল নেতাদের গ্রেপ্তারের ঘটনা থেকেই নিজের গ্রেপ্তারের আশঙ্কা করছিলেন ব্রহ্মানন্দ। আর তাই ব্রহ্মানন্দ লুকিয়ে পড়েছিলেন।


তাছাড়া রবিবার ধৃতকে উলুবেড়িয়া মহকুমা আদালতে হাজির করানো হয়েছে। তখন স্থানীয় বাসিন্দারা চোর চোর স্লোগান তুলেছেন। যদিও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে এই বিষয়ে উদয়নারায়ণপুরের বিজেপির ৫ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি অভিজিৎ চক্রবর্তী বলেন, ‘তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন ব্রহ্মানন্দ নানা দুর্নীতি ও অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এলাকায় দাদাগিরি, তোলাবাজি করতেন। ওঁর জন্য সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে থাকত।’