• facebook
  • twitter
Wednesday, 1 April, 2026

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প করার আইডিয়া বললেন মমতার

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা তাঁর কাছে এসে বাজার করার জন্য টাকা চেয়েছিলেন

রাজনীতির মঞ্চে তিনি লড়াকু নেত্রী, আবার জনসভায় অনায়াসে হয়ে ওঠেন ঘরের মানুষ— বড়ঞার সভায় সেই পরিচিত ভঙ্গিতেই নজর কেড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবারের নির্বাচনী জনসভায় তিনি সরাসরি মহিলাদের আবেগ ছুঁতে চেয়েছেন, আর তার জন্য বেছে নিয়েছেন বাঙালি পরিবারের চিরচেনা ‘আঁচলে বাঁধা’ সঞ্চয়ের গল্প।

ভোটের আগে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত। মমতার অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে মহিলাদের নামই বেশি করে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটেই বড়ঞার মঞ্চ থেকে তিনি মহিলা ভোটারদের উদ্দেশে বার্তা দেন। তবে ভাষণে পরিসংখ্যানের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও ঘরোয়া উদাহরণ।

Advertisement

নোটবন্দির প্রসঙ্গ টেনে মমতা ফিরে গিয়েছেন ২০১৬ সালের এক স্মৃতিতে। তিনি জানিয়েছেন, সেই সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা তাঁর কাছে এসে বাজার করার জন্য টাকা চেয়েছিলেন। কারণ পুরনো নোট জমা দিতে হওয়ায় হাতে নগদ ছিল না। এই অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের প্রভাব সরাসরি সাধারণ পরিবারের রান্নাঘরে গিয়ে পড়েছিল।

Advertisement

শুধু এই ঘটনাই নয়, আরও এক সাধারণ মেয়ের উদাহরণ তুলে ধরেছেন তিনি, যিনি অল্প অল্প করে টাকা জমিয়ে উৎসবের সময় পরিবারের জন্য কিছু কিনতেন। এইসব ছোট ছোট গল্পের মাধ্যমে মমতা তুলে ধরেছেন, অল্প সঞ্চয়ের মূল্য সাধারণ পরিবারের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সেই ভাবনা থেকেই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, নির্বাচনের আগে এই প্রকল্পের ভাতা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে সাধারণ মহিলারা মাসে ১৫০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলারা ১৭০০ টাকা করে পাচ্ছেন। রাজ্য বাজেটে এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নোটবন্দির সময়ের আর্থিক সংকটের স্মৃতি এবং বর্তমানের আর্থিক সহায়তার প্রকল্প— এই দুইয়ের তুলনা টেনে মমতা এক শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা দিতে চেয়েছেন। বিশেষ করে যখন ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক চলছে, তখন মহিলা ভোটারদের পাশে থাকার বার্তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরাই তাঁর কৌশল। সব মিলিয়ে, বড়ঞার সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু প্রচারই করেননি, বরং আবেগ, অভিজ্ঞতা ও বাস্তবতার মিশেলে মহিলা ভোটব্যাঙ্কে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করার চেষ্টা করেছেন।

Advertisement