বাড়িতে ঢুকে বধূকে ধর্ষণের অভিযোগ, বিধায়ক ঘনিষ্ঠ বিজেপি কর্মীর নাম জড়াল নদিয়ায়

Housewife Rape-Representative Photo

এবার গৃহবধূকে ধর্ষণ করে খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠল বিধায়ক ঘনিষ্ঠ বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তুমুল আলোড়ন পড়ে গিয়েছে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের কোতোয়ালি থানা এলাকায়। অভিযুক্ত বিজেপি কর্মী বাড়িতে ঢুকে ওই বধূকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। আর প্রমাণ না রাখতেই অবশেষে খুনের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভার বিধায়কের সঙ্গে নিজের ছবি দেখিয়ে ‘নির্যাতিতা’ বধূকে ওই বিজেপি কর্মী হুমকি দিত বলে অভিযোগ। কোতোয়ালি থানায় ধর্ষণ এবং খুনের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে খবর, গত শুক্রবার কোতোয়ালি থানা এলাকার ৩০ বছরের এক বধূর বাড়িতে জোর করে ঢুকে গিয়ে ধর্ষণ করে অভিযুক্ত। তখন ওই বধূর স্বামী বাড়িতে ছিলেন না। নাবালক পুত্র অন্য ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। ওই গৃহবধূর পুলিশকে দেওয়া লিখিত অভিযোগ, রাতে তিনি বাড়ির বারান্দায় শুয়েছিলেন। অভিযুক্ত তাঁদের বাড়ির পাঁচিল টপকে ঘরে ঢুকে পড়ে। আর তাঁকে ধর্ষণ করে। পরে এই নিয়ে অভিযোগ জানালে তাঁকে মারধর করে ওই যুবক। এমনকী কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতেও হামলা করেছে। অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে ‘নির্যাতিতা’ বধূর আগে ঘনিষ্ঠতা ছিল। তবে সম্প্রতি তাঁদের সম্পর্কের অবনতি হয়। তখন থেকে বধূকে ব্ল্যাকমেল করতে শুরু করেন ওই যুবক বলে অভিযোগ। পুলিশে এই ঘটনার অভিযোগ করেছে ‘নির্যাতিতা’ বধূর পরিবার।

স্থানীয় সূত্রে খবর, অভিযুক্ত যুবক এই এলাকায় প্রভাবশালী ও শাসকদলের কর্মী বলেই পরিচিত। ‘নির্যাতিতা’ বধূ বলেন, ‘ওই যুবকের সঙ্গে কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভার বিজেপি বিধায়কের একাধিক ছবি আছে। তা দেখিয়ে আমায় ভয় দেখাত। পুলিশের কাছে অভিযোগ করার পরও রাজনৈতিক প্রভাবের জন্য ব্যবস্থা নিতে দেরি হচ্ছে।’ এই অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ জানিয়েছে, ‘নির্যাতিতা’ বধূর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। বধূর বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার ডিএসপি শিল্পী পাল বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণ এবং খুনের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করে তদন্ত চলছে। অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চলছে।’


তাছাড়া এই ঘটনা নিয়ে কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভার বিধায়ক সাধন ঘোষ বলেন, ‘এমন কাউকে আমি চিনি না। ভোটে জয়লাভের পর অনেকেই এসে সংবর্ধনা দিয়েছে। সেল্‌ফি তুলেছে। জনপ্রতিনিধি হিসেবে এমন আবদার রাখতে হয়। একটা ছবি দিয়ে এভাবে আমার নাম জড়িয়ে দেওয়া ঠিক নয়। আইন আইনের পথে চলবে। অভিযুক্ত কোন দলের রাজনৈতিক কর্মী সেটা বিবেচ্য নয়।’ পাল্টা কালীগঞ্জের বিধায়ক আলিফা আহমেদ বলেন, ‘রাজ্যজুড়েনির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে। গুন্ডারাজ এবং অপশাসন চলছে। এটা তারই অংশ। অবিলম্বে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে হবে।’