বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক হলেও প্রেম ছিল অটুট। একজন যুবক অপরজন গৃহবধূ। কিন্তু সেই সম্পর্ক তো সমাজ মেনে নেবে না। যথারীতি সেটা জানাজানি হতেই সম্পর্কের দড়ি টানাটানি শুরু। আর তা থেকেই শুরু হয় চরম পারিবারিক অশান্তি। এই অবস্থার জেরে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই প্রেমিক-প্রেমিকার অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটল। মর্মান্তিক এই ঘটনায় আলোড়ন পড়ে গিয়েছে হুগলি জেলার কোন্নগরে। সমাজমাধ্যমে আলাপ থেকেই প্রেম এবং ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় দু’জনের মধ্যে। সংসারের কথা ভুলে বধূ জড়িয়ে পড়েছিলেন যুবকের প্রেমে। এই সম্পর্কের কথা জানাজানি হতেই সাংসারিক অশান্তি শুরু। তার জেরে রেললাইনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করলেন যুবক। প্রেমিকের মৃত্যুসংবাদ পেয়েই পাল্টা আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন এক সন্তানের মা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, মৃতদের নাম সঙ্গীতা সাউ (২৫) এবং সন্দীপ গুপ্ত (২৬)। কোন্নগর গোপালচন্দ্র বোস সরণির বাসিন্দা সঙ্গীতার সঙ্গে পাঁচ বছর আগে বিয়ে হয়েছিল সোমনাথ মণ্ডলের। তাঁদের একটি কন্যাসন্তানও আছে। কিন্তু কদিন ধরেই দম্পতির মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হতে দেখা যাচ্ছিল। তার মধ্যেই ৬ মাস আগে সমাজমাধ্যমে কোন্নগর চটকল এলাকার টোটো চালক যুবক সন্দীপের সঙ্গে পরিচয় হয় সঙ্গীতার। তারপর থেকেই প্রেমের জোয়ারে ভাসতে থাকেন তাঁরা। সম্পর্ক গাঢ় হয়ে তা নতুন স্বপ্ন দেখাতে শুরু করে তাঁদের। এই প্রেমের সম্পর্ক সামনে আসতেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। তার জেরে দু’মাস ধরে বাপের বাড়িতে থাকতে শুরু করেছিলেন প্রেমিকা বধূ।
এই বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে টানাপোড়েন অব্যাহত ছিল। তার মধ্যেই গত বুধবার সন্দীপ গুপ্তর সঙ্গে বেরিয়ে ভোরবেলায় বাপের বাড়িতে ফেরেন সঙ্গীতা। যা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে চরম অশান্তি হয়। এরপর বৃহস্পতিবার কোন্নগরে রেললাইনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন সন্দীপ গুপ্ত। বেলুড় জিআরপি থানা দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। প্রেমিকের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে কার্যত ভেঙে পড়েন সঙ্গীতা। শনিবার দুপুরে বাড়ির দোতলার একটি ঘরে আত্মহত্যা করেন বধূ।
তাছাড়া মানসিক অশান্তি সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেন সন্দীপ। গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন সঙ্গীতাও। এভাবেই শেষ হয়ে গেল দুটি প্রাণ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃতার স্বামী এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছে পুলিশ।