পরিচারিকা থেকে রাজনীতির দরজায়, কেমন যাত্রা ছিল কলিতা মাঝির?

কলিতা মাঝি PICS-SNS

একসময় সংসারের হাল ধরতে বাড়ি বাড়ি কাজ করতেন ৷ এবার মন্ত্রিসভায় আউশগ্রামের কলিতা মাজি ৷ পরিচারিকা থেকে তিনি এখন মন্ত্রী ৷ স্টেটসম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে কলিতা মাঝি বলেন মানুষের সেবার জন্যই রাজনীতিতে আসা। আর সেই চেষ্টা কখনো বন্ধ হবে না।
প্রশ্ন- পরিচারিকা থেকে প্রতিমন্ত্রী । আউশগ্রামের কলিতা মাঝির কাহিনি এখন অনেকের অনুপ্রেরণা। সাধারণ থেকে অসাধারণ হয়ে ওঠার যাত্রাপথটা কেমন ছিল?
উত্তর – যাত্রাপথ সহজ ছিল না। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরোতে হয়েছে। যে কোনও জিনিস করতে গেলে কষ্ট করতেই হবে ৷ সেটা আর আলাদা করে বলার কথা নয়৷ সংসারের সব কাজ সামলে রাজনীতি করতাম। কঠিন ছিল। কিন্তু দল শেষ পর্যন্ত ভরসা দিয়ে গেছে।
প্রশ্ন – আপনার কোনও রাজনৈতিক পারিবারিক পটভূমি ছিল না, আর্থিকভাবেও খুব সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। আজ মন্ত্রী হওয়ার পর সাধারণ মানুষকে কী বার্তা দিতে চান ?
উত্তর – আমাদের ভারতীয় জনতা পার্টি সর্বোচ্চ দল ৷ সাধারণ মানুষের জন্য কতটা কাজে লাগতে পারে আমাকে দেখলেই বোঝা যায় ৷ সত্যি বলতে আমাদের দলের উপরে ও মোদিজির উপরে ভরসা রাখুন ৷ এছাড়াও আমাদের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুদার উপরে আস্থা রাখুন ৷ দল ঠিকই জায়গা দেবে। মানুষের জন্য কাজ করে যান। দল করছি মানেই সমস্ত সুযোগ সুবিধা আমি পাব, এইটা ভাবলে চলবে না। কাজ করে যেতে হবে। পরাজয় আসবে। হার আসবে। কিন্তু মানুষের জন্য করে যেতে হবে। দল করে নিজের জন্য বা পরিবারের জন্য বিনিময় কিছু নেব, এইটা হলে ভারতীয় জনতা পার্টি তার জন্য নয়।
প্রশ্ন – আউশগ্রামের মানুষ বহু প্রত্যাশা রাখছেন আপনার থেকে। তাঁদের জন্য প্রথমে কোন বিষয়গুলিতে জোর দিতে চান ?
উত্তর – বিধায়ক হিসাবে একটা কথা বলতে চাই, যে বিধানসভা থেকে আমি জিতেছি দলকে এটাই বলব আমার বিধানসভায় যা যা খামতি আছে সেগুলি পূরণ করতে ৷ কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও প্রকল্প আমার বিধানসভায় নেই ৷ প্রথম কাজ হবে গুসকরাতে একটা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ৷ এখানে খুবই দরকার ৷ এছাড়াও পানীয় জল ৷ আসল বিষয় হল নারীদের সুরক্ষা ৷ আমার জঙ্গল মহল এলাকা ৷ অনেকটা জঙ্গল পেরিয়ে স্কুল যায় মেয়েরা ৷ এগুলি সব ঠিক করা দরকার। এছাড়াও আরও দেখতে হবে ঘর বাড়ি রাস্তাঘাট সেগুলি কিচ্ছু নেই ৷ সেগুলিকে দেখা ৷ সবথেকে বড় বিষয় হল জঙ্গলমহল এলাকায় যদি আগুন লেগে যায় নেভানোর কোনও ব্যবস্থা থাকে না ৷ পাশের বিধানসভা থেকে ফায়ার ব্রিগেড আনতে হয় ৷ এই খামতিগুলি পূরণ করব ৷
প্রশ্ন – একজন সাধারণ পরিবারের মহিলার মন্ত্রী হওয়া কি বাংলার মেয়েদের রাজনীতিতে আরও এগিয়ে আসতে উৎসাহ দেবে বলে মনে করেন ?
উত্তর – মন্ত্রিত্ব পাওয়াটা আমার স্বপ্নে ছিল না ৷ কোনওদিন আশাও করিনি ৷ আমার মুখ্যমন্ত্রী আমাকে মন্ত্রী করেছেন এতে আমি গর্বিত ও আনন্দিত ৷ আমি প্রথমেই বলেছি যা সাধারণ মানুষকে বলতে চাই ৷ আমাদের দলে প্রতি বিশ্বাস ও ভরসা রাখুন ৷ সবথেকে বড় বিষয় হল মোদিজির গ্যারেন্টি ৷ অবশ্যই মনের আশা সবার পূরণ হবে ৷
প্রশ্ন – আগে বিজেপি কর্মী ছিলেন বেশ কয়েক বছর। এবার প্রশাসনিক দায়িত্বও পেলেন । মন্ত্রী হিসেবে আপনার অগ্রাধিকার কী হবে ?
উত্তর – এটাই বলব আমাকে যেভাবে যে কাজ নির্দেশ দেবে সেইসব আমি মাথা পেতে নেব ৷ আর মানুষের কাছে পৌঁছে দেব ৷ দায়িত্ব যে দপ্তরের দেওয়া হয়েছে সেখানে কোনও দুর্নীতি হতে দেব না ও কাউকে কোনও অভিযোগ করার সুযোগ দেব না ৷ সাধারণ মানুষের যা চাহিদা আমি সমস্ত স্তরে পৌঁছে দেব ।
প্রশ্ন – সংসার সামলে রাজনীতিতে সময় দিয়েছেন। পরিবারের কতটা সমর্থন ছিল?
উত্তর – পরিবার আমার পাশে ছিল। আমার শ্বশুর মশাই সব সময় বলেছেন মানুষের জন্য কাজ করতে। শশুর শাশুড়ি বলেছেন দল তোমাকে চাইছে। তুমি কাজ করো। সংসার আমরা সামলে নেব। পরিবার সব সময় সমর্থন করেছে। পরিবারের সমর্থন ছাড়া আমি এ জায়গায় পৌঁছাতে পারতাম না।
প্রশ্ন – ২০২১ সালেও ভোট দাঁড়িয়েছিলেন। পরাজয় এসেছিল। তারপর ২০২৬ সালে জয়। বিধায়ক এবং মন্ত্রিত্ব। মাঝখানের সময়টুকু কেমন কেটেছিল?
উত্তর – নানান বাধা দেওয়া হয়েছিল। বিজেপি করি বলে আমার পরিবারকে এক ঘরে করে দেওয়া হয়েছিল। চোখের সামনে দেখেছি অত্যাচার করতে। পঞ্চায়েত ভোট, লোকসভা ভোটের সময় দেখেছি তৃণমূল নেতাদের ঘর জ্বালিয়ে দিতে, যাদের কোনো দোষ নেই। তাদের নামে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে তাও দেখেছি। চোখের সামনে মা ও মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে। সব জেনেও তৎকালীন পুলিশ প্রশাসন কোন সাহায্য করেনি। আমাকে বহুবার হুমকি দেয়া হয়েছে। অনেকবার অভিযোগ জানিয়েছি। পুলিশ কোন পদক্ষেপ নেয়নি। তৎকালীন সরকার পুলিশকে পকেটে পুরে রেখেছিল।
প্রশ্ন – এই মুহূর্তে কাজের প্রায়োরিটি কি?
উত্তর – নিজের এলাকার উন্নয়নতো হবেই। শুধু স্বাস্থ্যকেন্দ্র নয় মহিলাদের জন্য আরও অনেক কাজ করতে হবে। ধাপে ধাপে এগোবো। পরিকল্পনা রয়েছে। সময় লাগবে। আউসগ্রামের মানুষের স্বপ্ন পূরণ করব।