বিগত কয়েকদিন ধরে অবিরাম ও মুষলধারে বৃষ্টির জেরে দার্জিলিং ও কালিম্পং পাহাড়সহ সমগ্র উত্তরবঙ্গের স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ধস ও পাহাড়ি নদীর তীব্র স্রোতে একাধিক স্থানে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যার ফলে চরম সমস্যায় পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
দার্জিলিং জেলার বিজনবাড়ি ব্লকে টানা বৃষ্টির জেরে ফেঞ্চেটার থেকে রিমবিক-লোধামার সংযোগকারী মূল সড়কে ভয়াবহ ধস নেমেছে। প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি নদীর জলস্ফীতিতে রাস্তার একটি বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে। এর ফলে প্রায় ৬টি গ্রামের মানুষ বাইরের জগৎ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ, স্কুল-কলেজ এবং অফিসে যাতায়াতের ক্ষেত্রে চরম চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয়রা। গ্রামবাসীরা দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, লাভা-কালিম্পং রুটের নিম বস্তির কাছে ‘ফুরকেলি ভীর’-এ ধস নেমে যান চলাচল সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এর পাশাপাশি কালিম্পংয়ের পেডংয়ের কাগে এলাকাতেও মূল সড়কে ধস নামায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। যাতায়াতের জন্য সাধারণ যাত্রীদের বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গত তিন সপ্তাহে দার্জিলিং পাহাড়ে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় দেড়শটিরও বেশি স্থানে ধসের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০টি বাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামার পর্যালোচনা বৈঠকে জেলা প্রশাসন এই তথ্য পেশ করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাহাড়ে এসডিআরএফ-এর দুটি টিম মোতায়েন রাখা হয়েছে এবং এনডিআরএফ, বিএসএফ ও সশস্ত্র সীমা বল -এর সঙ্গে যৌথ মকড্রিলের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ বজায় রাখতে স্যাটেলাইট ফোন এবং পুলিশ আরটি সেট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ১৫টি দপ্তরকে যুক্ত করে চালু করা হয়েছে ‘ইন্টিগ্রেটেড ডিস্ট্রিক্ট ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার’। পাহাড়ে অবসরপ্রাপ্ত সেনা জওয়ানদের নিয়ে ১০০ জনের ‘ডিসাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ’ মোতায়েন করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর অনুযায়ী, সমতল থেকে পাহাড়—সমগ্র উত্তরবঙ্গেই প্রবল বৃষ্টিপাত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোচবিহারে সর্বোচ্চ ২৫৪.২ মিমি এবং জলপাইগুড়িতে ১৬৫.৬ মিমি রেকর্ড বৃষ্টিপাত নিবন্ধিত হয়েছে। এছাড়া সিকিম ও সংলগ্ন উত্তরবঙ্গের পার্বত্য এলাকাগুলোতে ব্যাপক বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।
আবহাওয়া কেন্দ্রের পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৮০ মিমি পর্যন্ত অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ারসহ সমতলের উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদা জেলায় আকস্মিক বন্যা এবং নিচু এলাকায় জল জমার সম্ভাবনা রয়েছে। তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা ও রায়ডাকের মতো প্রধান পাহাড়ি নদীগুলোতে জলের স্তর মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের তরফে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার এবং পাহাড়ি এলাকায় অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
টানা বৃষ্টিতে ধসে বিপর্যস্ত পাহাড় ও উত্তরবঙ্গ: বিচ্ছিন্ন একাধিক গ্রাম, নদী প্লাবিত হওয়ার সতর্কতা
PIC- SNS