পদত্যাগ করলেন হিল তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান এল.বি. রাই

রাজ্য রাজনীতিতে পটপরিবর্তনের প্রভাব এবার পড়তে শুরু করল পাহাড়েও। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর পাহাড়ে বড়সড় ভাঙন ধরল তৃণমূল কংগ্রেসে। সোমবার এক যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করে হিল তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা চেয়ারম্যান লাল বাহাদুর রাই (এল.বি. রাই) সহ মিরিকের একঝাঁক শীর্ষ নেতৃত্ব দল থেকে গণ-পদত্যাগের ঘোষণা করলেন। একই সঙ্গে এদিন মিরিক মহকুমা কমিটির অধীনস্থ সমস্ত ব্লক, যুব, ছাত্র এবং ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠনকে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। সোমবার মিরিকে আয়োজিত এই সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হিল তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান লাল বাহাদুর রাই এবং মিরিক ব্লক সভাপতি অনিল ছেত্রী সহ দলের একাধিক স্তরের নেতাকর্মী।

মিরিক ব্লক সভাপতি অনিল ছেত্রী বলেন,’বিধানসভা নির্বাচনে আমাদের পার্টির হার হয়েছে। সেই হারকে আমরা সানন্দে স্বীকার করে নিচ্ছি। আজ ১৮ মে, ২০২৬ (সোমবার) আমরা মিরিক মহকুমা কমিটির সমস্ত স্তরের নেতাকর্মীরা নিজেদের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।‘ তিনি আরও জানান, আজ থেকে মিরিকের ব্লক কমিটি, যুব মোর্চা, ছাত্র সংগঠন এবং ট্রেড ইউনিয়ন সহ সমস্ত সহযোগী সংগঠন বিলুপ্ত ঘোষণা করা হল এবং আপাতত তাঁরা সকলেই ‘নির্দল’ বা নিরপেক্ষ হিসেবে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অনিল ছেত্রীর বক্তব্যের পর হিল তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান তথা মিরিকের প্রাক্তন পুরপ্রধান লাল বাহাদুর রাই এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে নিজের পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘পার্টির এই হারকে স্বীকার করে নিয়ে মিরিক ব্লক কমিটির এই যৌথ পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে আমি সমর্থন জানাচ্ছি। আমিও পাহাড়ে পার্টির জেলা চেয়ারম্যান পদে ছিলাম। আজ থেকে আমিও এই পদ এবং দল থেকে পদত্যাগ করছি।‘ তিনি জানান, ইতিমধ্যেই তাঁদের এই সম্মিলিত পদত্যাগপত্র হিল তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভানেত্রী শান্তা ছেত্রীর কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এর একটি প্রতিলিপি কলকাতায় দলীয় সদর দপ্তরে পাঠানো হচ্ছে।


দলের এই কঠিন সময়ে পাহাড়ে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছেন এল.বি. রাই। তিনি তাঁর দলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ’গণতন্ত্রে হার-জিত থাকবেই। আমরা শান্ত মাথায় এই পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছি। আমি সমস্ত স্তরের কর্মীদের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, পাহাড়ে যেন কোনও রকম অশান্তি বা ঝগড়া-বিবাদ না হয়। আমরা সকলেই যেন শান্তিপূর্ণভাবে থাকি। আগামী দিনের রণনীতি কী হবে, তা নিয়ে খুব শীঘ্রই সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ স্থির করা হবে।‘

রাজনৈতিক মহলের মতে, সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড়ে তৃণমূলের জোটসঙ্গী অনীত থাপার ‘ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা’-র শোচনীয় পরাজয় এবং রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরই এই ধস অনিবার্য ছিল। ২০১৭ সালে দাপুটে গোর্খা নেতা এল.বি. রাই জিএনএলএফ  ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন এবং সে বছরই মিরিক পুরসভা দখল করে পাহাড়ে প্রথমবার খাতা খুলেছিল ঘাসফুল শিবির। পরবর্তীতে ২০২২ সালে পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হলেও রাজ্য সরকার তাঁকে প্রশাসক পদে বসিয়ে রেখেছিল। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, শান্তা ছেত্রীর পর পাহাড় তৃণমূলের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ছিলেন এই এল.বি. রাই। তাঁর এবং সমগ্র মিরিক মহকুমা কমিটির এই আকস্মিক পদত্যাগের ফলে পাহাড়ের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অস্তিত্ব কার্যত মুছে যাওয়ার মুখে দাঁড়িয়েছে।