গরমের ছুটি চলছে স্কুলে। সঙ্গে তীব্র গরম। এই সময়ে কয়েকটা দিন পাহাড়ে বেড়াতে যেতে কার না ভালো লাগে! দার্জিলিং, সিকিম বা কোনও নির্জন পাহাড়ি গ্রাম। কিন্তু যাব বললেই তো আর যাওয়া যায় না। এই সময়ে ট্রেনে টিকিট পাওয়া মানে আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার মতো!
বিকল্প হিসেবে বাস থাকলেও তার ভাড়া মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে। ডায়নামিক ফেয়ারের দৌলতে বাস ও বিমানের টিকিটের দাম এখন প্রায় কাছাকাছি। তাই পাহাড়ের আশা ছেড়ে মধ্যবিত্ত বাঙালির একাংশ গরমের ছুটিতে ভ্রমণের জন্য বেছে নিচ্ছে দিঘা।
দুর্গাপুর থেকে শিলিগুড়ি যাওয়ার একাধিক বিলাসবহুল বেসরকারি বাস রয়েছে। যার ভাড়া আগে ছিল ৮০০ থেকে ২৫০০ টাকা, গরমের ছুটিতে তা বেড়ে হয়েছে ২৫০০ থেকে ৬০০০ টাকা। সরকারি বাস থাকলেও তা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) নয়। এ ছাড়া কয়েকটি লাক্সারি নন এসি বাস রয়েছে যার ভাড়া ৬৫০ থেকে ৮০০ টাকা হলেও গরমে সবার পছন্দ এসি বাস।
স্টিল টাউনশিপের বাসিন্দা অমিতাভ গঙ্গোপাধ্যায় এ দিন এসেছিলেন শিলিগুড়ির বাসের টিকিট কাটতে। তিনি বললেন, ‘এত টাকা ভাড়া দিয়ে পাহাড়ে বেড়াতে যাওয়া সম্ভব নয়। স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে কথা বলে দিঘা যাচ্ছি। রাতে দিঘা যাওয়ার এসি বাসের টিকিট কেটেছি।’
অনেকে পুরী যাওয়ার কথা ভাবলেও বাধ সাধছে টিকিটের দাম। বিলাসবহুল বাসের ভাড়া ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা। সিটি সেন্টার এলাকার এক বেসরকারি বাস সংস্থার ম্যানেজার রাকেশ সিং জানান, ডায়নামিক ফেয়ারে যাত্রী চাহিদা বেশি থাকলে ভাড়া বেশি। বর্ষার সময়ে যাত্রী না-পাওয়ায় লোকসানে গাড়ি চলবে। তখন ভাড়া কমে এক থেকে দেড় হাজার টাকা হবে।
আগে দুই থেকে তিনটি সরকারি ও বেসরকারি বাস দুর্গাপুর-দিঘা রুটে চলত। এখন চারটি সরকারি বাস চলে। বেসরকারি বাস চলে আটটি। বেনাচিতির বাসিন্দা সঞ্জীব রায় বললেন, ‘শিলিগুড়ি ও পুরীর বাসের ভাড়া অত্যধিক বাড়ায় কম পয়সায় দিঘাই ভালো।’