মঙ্গলবার ২৩ জুন ভারত কেশরী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণ দিবস পালন হচ্ছে রাজ্যজুড়ে। জনসংঘের এই বিশিষ্ট নেতার জন্মদিবস ৬ জুলাই। রাজ্য বাজেটের দিন ঘোষণা করা হয় ওই দিন ছুটি থাকবে। এবার সমস্ত সরকারি স্কুলে এই নির্দেশিকা পৌঁছে গিয়েছে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়েও তা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এখানেই শেষ নয়, আগামী ৬ জুলাই রাজ্য সরকারি ছুটি থাকার পাশাপাশি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিনকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য রাজ্যের প্রত্যেকটা স্কুলে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে উচ্চশিক্ষা দপ্তর মঙ্গলবার থেকে আগামী ১৫ দিন রাজ্যের সব স্কুলে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ হিসেবে পালন করবে বলে জানালেন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। সুতরাং ছুটি থাকছে মাত্র একদিন। বাকি ১৫ দিন বিশেষ অনুষ্ঠান হবে। এই রাজ্যে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে চর্চা বন্ধ ছিল। কখনও হয়নি। এবার তা হতে চলেছে। যাতে নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা জানতে পারেন এই রাজ্যের জন্য শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান।
অন্যদিকে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়েও ২৩ জুন থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই একই নির্দেশ প্রত্যেক স্কুলেও পৌঁছে দিল বিকাশ ভবন। বিকাশ ভবন সূত্রে খবর, রাজ্যের সব জেলা স্কুল পরিদর্শককে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ দিন সরকারি স্কুলগুলিতে একাধিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে আলোচনাসভা, প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা, বিতর্ক সভা, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের লেখা এবং তাঁর বক্তব্য পাঠ, তাঁর অবদান নিয়ে আলোচনা-সহ নানা অনুষ্ঠান স্কুলে আয়োজিত হবে।
তাছাড়া মঙ্গলবার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণ দিবসে তাঁর মূর্তিতে মাল্যদান করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম তা করা হলো। বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল, হারিয়ে যাওয়া শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিকে ফিরিয়ে আনা হবে। মানুষ যাতে শ্যামাপ্রসাদ নিয়ে চর্চা করেন, সেটার চেষ্টা করবে সরকার। সোমবার রাজ্য বাজেটে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মশতবার্ষিকীকে স্মরণীয় করে রাখতে ৬ জুলাই সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। হুগলির জিরাটে অবস্থিত তাঁর পৈতৃক ভিটেটি রাজ্য সরকার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেখানে একটি রাষ্ট্রীয় স্মারক, সংগ্রহশালা ও গ্রন্থাগার গড়ে তোলা হবে। মূল বাড়িটি সংস্কার করে পুরনো মহিমায় ফিরিয়ে আনা হবে। জিরাটে তাঁর একটি ১২৫ ফুট উঁচু বিশাল মূর্তি স্থাপন করা হবে। রাজ্যজুড়ে পার্ক, গ্রন্থাগার এবং স্মারক নির্মাণের জন্য বাজেটে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।