হাইকোর্টের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি, গবেষক ছাত্রের নাম নথিভুক্ত ভোটার তালিকায়

এসআইআরের ফলে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় কলাকাত হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন গবেষক ছাত্র মহম্মদ অয়ন নাওয়াজ ।
আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনও জায়গা না দেওয়া হয়নি অভিযোগ করেন তিনি।  শুনানির সুযোগ না দিয়েই তাঁর নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এই ঘটনা সাংবিধানিক ভোটাধিকারকে খর্ব করা হয়েছে বলে মত ওই গবেষক ছাত্রের।

তাঁর আইনজীবী ফিরদৌস শামিম ও আইনজীবী গোপা বিশ্বাস এদিন আদালতে জানান, মহম্মদ অয়ন নাওয়াজ মুর্শিদাবাদের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা। তাঁরা তিন ভাই যার মধ্যে দুই ভাই চিকিৎসক।  ২০২৫ সালের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ও ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫-এ প্রকাশিত খসড়া তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল।  চলতি বছরের ২৭ শে ফেব্রুয়ারি  এসআইআর প্রক্রিয়ায় তাঁর নাম ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ তালিকাভুক্ত করা হয়। পরে তাঁর নাম বাদ পড়ে যা। অথচ তিনি পরিচয়পত্র-সহ বসবাসের সমস্ত নথি জমা দিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনের কাছে। তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যের নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে অথচ তাঁর নাম বাদ পড়েছে।

ওই গবেষক মুর্শিদাবাদের দেবীপুর জগদাই থানা এলাকার বাসিন্দা।   ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে আইআইটি কানপুরের পদার্থবিদ্যা বিভাগে পিএইচডি-র সুযোগ পান। আগামী ২২ জুলাই আইআইটি কানপুরের পদার্থবিদ্যা বিভাগে যোগদানের জন্য তাঁকে বলা হয়েছে। ২৫ ও ২৬ জুলাই বায়োমেট্রিক নথিভুক্তিকরণ এবং ২৭ জুলাই একাডেমিক রেজিস্ট্রেশনের নির্ধারিত করা রয়েছে।


আইনজীবীরা দাবি করেন,ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় ভবিষ্যতে প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়তে হতে পারে, যা তাঁর উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কমিশনের এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারী এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া না মেনেই করা হয়েছে।
ছাত্রের দাবি, তাঁর নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায়  ছিল এবং বর্তমানে পরিবারের অন্যান্য সদস্যের নামও ভোটার তালিকায় রয়েছেন।

ফলে তাঁর পারিবারিক ও বসবাসের ধারাবাহিকতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন ওঠে না। তবুও শুধুমাত্র তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’র ভিত্তিতে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। গত ৬ এপ্রিল ২০২৬ তিনি অনলাইনে আবেদন করলেও ট্রাইবুন্যালের কোনও প্রতিকার পাননি। তাঁর অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ট্রাইব্যুনাল গঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে কার্যকর হার খুবই কম। ফলে বিকল্প আইনি প্রতিকারের সুযোগ থেকেও তিনি বঞ্চিত হয়েছেন।

আদালতের কাছে ওই গবেষক আবেদন করেন, যাতে তাঁর নাম পুনরায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং কার্যকর আপিল ট্রাইব্যুনাল অবিলম্বে চালু করার জন্য নির্বাচন কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হোক। কারণ তাঁর সামনে একদিকে উচ্চশিক্ষার রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে পাশাপশি ভোটাধিকার প্রয়োগের সাংবিধানিক অধিকার হারাবে। মামলাকারী ও নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি কৃষ্ণা রাও অবিলম্বে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন।