ভোটের ৭২ ঘণ্টা আগে বাইক বন্ধ মামলায় কমিশনকে তোপ হাইকোর্টের

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে একাধিক কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত হল ভোটের তিন দিন আগে থেকে বাইক চলাচলের উপর বিধিনিষেধ আরোপ। এই নির্দেশকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টে এ নিয়ে একটি মামলাও হয়েছে।

এই মামলার শুনানিতে কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করেন বিচারপতি কৃষ্ণ রাও। তিনি বলেন, অযৌক্তিকভাবে সাধারণ মানুষের চলাচল ও দৈনন্দিন জীবন থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর পর্যবেক্ষণ, ভোট পরিচালনার নাম করে নাগরিক অধিকারে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করা ঠিক নয়।

বিচারপতি কমিশনের উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন, কেন জরুরি অবস্থা ঘোষণা না করে এমন কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। তাঁর মতে, যদি পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়, তাহলে সেটি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা উচিত। না হলে এই ধরনের সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়। তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র বাইক নয়, একই যুক্তিতে গাড়ি চলাচলও বন্ধ করা যেতে পারে, কিন্তু তাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।


আদালত কমিশনের কাছে জানতে চায়, গত পাঁচ বছরে কটটি বাইক সংক্রান্ত অপরাধ বা এফআইআর হয়েছে এবং সত্যিই কি বাইক ব্যবহারের কারণে বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলা সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিচারপতির মতে, শুধুমাত্র সম্ভাবনার ভিত্তিতে এত বড় পরিসরে বিধিনিষেধ আরোপ করা যুক্তিযুক্ত নয়।

তিনি আরও মন্তব্য করেন, নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা আছে বলে তা অযথা প্রয়োগ করা যায় না। নাগরিকদের স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে তা প্রশাসনের বাড়াবাড়িতে পরিণত হয়। তাঁর মতে, রাজ্যে পর্যাপ্ত পুলিশ, সিসিটিভি নজরদারি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়।

আদালত কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে, কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তার বিস্তারিত হলফনামা জমা দিতে হবে। ফলে ভোটের আগে এই বিধিনিষেধ ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।