‘একের পর এক এফআইআর, গ্রেপ্তারের দরকার কোথায়?’ কেন্দ্রকে প্রশ্ন হাইকোর্টের, তিন মামলায় স্বস্তি অভিষেকের

Photo File

তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক এফআইআর ঘিরে বৃহস্পতিবার তুমুল আইনি লড়াইয়ের সাক্ষী থাকল আদালত। দীর্ঘ শুনানির শেষে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানান, তদন্ত চলবে কিন্তু তদন্তে সহযোগিতা করলে আপাতত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। মামলার পরবর্তী শুনানি ৬ আগস্ট।

শুনানিতে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস ভি রাজু আবেদনটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, এক আবেদনে একাধিক এফআইআর খারিজের আবেদন আইনসঙ্গত নয়, প্রতিটি এফআইআর-এর জন্য পৃথক মামলা করা উচিত। যদিও আদালত জানায়, যেসব এফআইআর তথ্য আদালতের সামনে রয়েছে, আপাতত সেগুলিই বিবেচনায় নেওয়া হবে।

অভিষেকের আইনজীবী গোপাল শঙ্করণারায়ণ আদালতে দাবি করেন, অন্তত চারটি এফআইআর-এর পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনও আবেদনকারীকে দেওয়া হয়নি। তিনি ২০২১ সালে শুভেন্দু অধিকারীর মামলার নজির টেনে বলেন, তখনও একাধিক এফআইআর একসঙ্গে শুনে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিয়েছিল হাইকোর্ট। আদালতও স্বীকার করে, সেই মামলায় একাধিক এফআইআর একসঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছিল, যদিও তখন এই প্রযুক্তিগত আপত্তি তোলা হয়নি।


আবেদনকারীর দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই পরিকল্পিতভাবে একের পর এক এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অনেক অভিযোগই বহু বছরের পুরনো ঘটনা নিয়ে হলেও,  সেগুলি হঠাৎ ২০২৬ সালে এফআইআর-এর রূপ পেয়েছে বলে আদালতে অভিযোগ তোলা হয়।

একটি এফআইআর-এর প্রসঙ্গে অভিষেকের রাজনৈতিক পোস্টে ব্যবহৃত ‘বাংলা বিরোধী গুজরাতি’ মন্তব্য নিয়েও বিতর্ক ওঠে। আবেদনকারীর আইনজীবীর দাবি, এটি নিছক রাজনৈতিক মন্তব্য, কোনও ফৌজদারি অপরাধ নয়। শুনানির সময় আদালতও কেন্দ্রকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়, ‘এতগুলি এফআইআর দায়ের হয়েছে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর। তদন্ত চলুক, কিন্তু এই পর্যায়ে হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন কোথায়?’

এর জবাবে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ অভিযোগ করেছেন বলেই এফআইআর খারিজ করা যায় না। তদন্তে আদালতের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয় বলেও তিনি দাবি করেন। এসজি এস ভি রাজুর বক্তব্য, শুধুমাত্র অভিযোগ দায়েরে দেরি হয়েছে বলে এফআইআর বাতিল করা যায় না; প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ ইতস্তত করতেই পারে।

পাল্টা যুক্তিতে গোপাল শঙ্করণারায়ণ সুপ্রিম কোর্টের ‘ভজনলাল’ রায়ের উল্লেখ করে বলেন, বিদ্বেষপ্রসূত বা আইনের অপব্যবহারমূলক ফৌজদারি প্রক্রিয়া রুখে দেওয়ার সাংবিধানিক ক্ষমতা আদালতের রয়েছে এবং এই মামলাতেও সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সব পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর কলকাতা হাই কোর্ট জানিয়ে দেয়, এই মুহূর্তে এফআইআর খারিজ করা হবে না। তবে তদন্তে সহযোগিতা করলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে না। ভবানীপুর, শিলিগুড়ি ও বিষ্ণুপুরের এফআইআর-সহ আবেদনপত্রে উল্লেখিত মামলাগুলিতে আপাতত এই সুরক্ষা বহাল থাকবে। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৬ আগস্ট।