শূন্য স্কুলে শিক্ষক রাখার নয়া এসওপি নিয়ে হাইকোর্টে প্রশ্ন, ফর্ম ফিল-আপ চলবে, পরবর্তী শুনানি আগামী বুধবার

File Photo

শূন্য ছাত্রভর্তি (Zero Enrolment) স্কুল থেকে শিক্ষক সরানো এবং উদ্বৃত্ত শিক্ষকদের শিক্ষক-সংকট থাকা স্কুলে বদলির জন্য রাজ্য সরকারের জারি করা নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে। এসওপিতে  (SOP) শিক্ষকদের তিনটি পছন্দের স্কুল বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিধানকেও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

মামলার শুনানিতে বিচারপতি বিভাস পট্টনায়ক জানতে চান, আদালতে জমা দেওয়া দু’টি পৃথক এসওপির মধ্যে কোনটি কার্যকর করা হবে। আদালত এ-ও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এসওপি (SOP) অনুযায়ী ফর্ম ফিল-আপের প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে হবে। তবে প্রয়োজন হলে এই প্রক্রিয়ার সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে বলেও নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী বুধবার।

আরও পড়ুন: কোটি টাকার উদ্ধারকাণ্ডে ‘রক্ষাকবচ’ চেয়ে হাইকোর্টে টুলু, চলতি সপ্তাহেই শুনানির সম্ভাবনা


রাজ্যের দাবি, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ও স্পনসর্ড বহু স্কুলে শিক্ষক-সংকট প্রকট হলেও অন্যদিকে এমন কিছু স্কুল রয়েছে যেখানে একজনও পড়ুয়া নেই, অথছ শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীরা কর্মরত রয়েছেন।এই বৈপরীত্য দূর করতেই নতুন এসওপি জারি করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, জেলা শিক্ষা প্রশাসন প্রথমে শূন্য ছাত্রভর্তি স্কুল, উদ্বৃত্ত শিক্ষক থাকা স্কুল এবং শিক্ষক-ঘাটতি থাকা স্কুলের পৃথক তালিকা প্রস্তুত করবে। একই সঙ্গে প্রাথমিক স্তরে কোন বিষয়ে কতজন শিক্ষক প্রয়োজন, সেই তথ্যও প্রকাশ করা হবেয উদ্বৃত্ত শিক্ষক চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত(PTR) এবং শিক্ষকের বয়স দুই বিষয়ই বিবেচনায় রাখা হবে। সাধারণভাবে কম বয়সি শিক্ষককে আগে বদলির জন্য নির্বাচন করা হলেও, কোনও প্রবীণ শিক্ষক স্বেচ্ছায আগ্রহ প্রকাশ করলে তাঁকেও তালিকাভুক্ত করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন: ‘রাজ্যের এসএসকেএম হাসপাতালের চিকিৎসকদের উপর আস্থা নেই কেন?’— অভিষেকের মামলা খারিজ করল হাইকোর্ট

এসওপি (SOP)  অনুযায়ী, বদলির আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের তিনটি পছন্দের স্কুল বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ পছন্দ না জানালে, অথবা নির্বাচিত স্কুলে শূন্যপদ না থাকলে, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে প্রশাসন প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোনও শিক্ষক-সংকট থাকা স্কুলে বদলিরর নির্দেশ দিতে পারবে। সেই সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত ও বাধ্যতামূলক হবে।

এছাড়াও শূন্য ছাত্রভর্তি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনুমোদিত পদে প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য স্কুলে স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। কোনও শূন্য স্কুল বন্ধ হলে, সেই স্কুলের নথিপত্র ও সম্পতির দায়িত্ব অস্থায়ীভাবে সংশ্লিষ্ট সাব-ইনস্পেক্টর অব স্কুলের হাতে থাকবে এবং তাঁকে এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

তবে রাজ্য সরকার স্পষ্ট করেছে, এই নীতিতে কোথাও শিক্ষক বা অশিক্ষক কর্মীদের চাকরি বাতিলের কথা বলা হয়নি। বরং বিদ্যমান জনবলকে পুনর্বিন্যাস করে শিক্ষক সংকট দূর করাই এই নতুন এসওপির মূল উদ্দেশ্য।

<iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/SikjyfyZ-Yk?si=6g9WwAPyOE-YBFwk” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>