রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেই লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল শিল্প এবং বিনিয়োগ টানতে হবে। আর তাহলেই এই রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান গড়ে তোলা সম্ভব। এই লক্ষ্যে নানা পদক্ষেপ করা হয়েছে। আমূল দিয়ে সেই কাজ শুরু হয়েছে। আরও বেশ কিছু কলকারখানা রাজ্যে আসবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। এই আবহে এবার পুরুলিয়ায় আরও এক বড় শিল্প বিনিয়োগ হতে চলেছে। অমিত মেটালিকস লিমিটেড পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলার রঘুনাথপুরে প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে একটি অত্যাধুনিক ইন্টিগ্রেটেড ইস্পাত উৎপাদন কারখানা গড়ে তুলতে চলেছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের ইস্পাত শিল্পে নতুন গতি আসবে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান গড়ে উঠবে। পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং শিল্প উৎপাদনের ক্ষেত্রেও এটা তাৎপর্যপূর্ণ।
অমিত মেটালিকস লিমিটেডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৭ আগস্ট এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। নতুন কারখানায় ইন্টিগ্রেটেড স্টিল ম্যানুফ্যাকচারিং করা হবে। এমনকী আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা এবং পরিবেশবান্ধব পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অমিত মেটালিকস সম্পর্কে জানা গিয়েছে যে, ২ হাজার কোটি টাকা টার্নওভারের অমিত অ্যালায়েন্স হচ্ছে প্রধান সংস্থা। এই সংস্থার দাবি, এই প্রকল্প চালু হলে তাদের ইস্পাত উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। আবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। যা পুরুলিয়া এবং আশপাশের জেলার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।
গত কয়েক বছরে পুরুলিয়া, ধীরে ধীরে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল হিসেবে উঠে এসেছে। রঘুনাথপুর-সহ আশপাশের এলাকায় ইতিমধ্যেই একাধিক ধাতু এবং উৎপাদন শিল্প গড়ে উঠেছে। নতুন এই ৪,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ সেই শিল্পভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। বণিকমহলের মতে, ইন্টিগ্রেটেড স্টিল প্ল্যান্ট গড়ে উঠলে শুধু ইস্পাত উৎপাদনই বৃদ্ধি পাবে এমনটা নয়, তার সঙ্গে যুক্ত পরিবহণ, লজিস্টিকস, যন্ত্রাংশ সরবরাহ, নির্মাণ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পেরও প্রসার ঘটবে। সুতরাং স্থানীয় অর্থনীতিতে বহুমুখী ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আর স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে।
তাছাড়া অমিত মেটালিকস লিমিটেড সূত্রে খবর, প্রকল্পে উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তির এবং সাসটেইনেবল ইনফ্রাস্ট্রাকচার অথবা পরিবেশবান্ধব পরিকাঠামোর উপর জোর দেওয়া হবে। শিল্প উৎপাদন এবং পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। রাজ্যে নতুন শিল্প বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে এই প্রকল্পকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ধাতু ও উৎপাদন শিল্পের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান আরও মজবুত হতে পারে। আর পুরুলিয়ায় এই নতুন ইস্পাত কারখানা চালু হলে জেলার শিল্পায়নের গতি অনেক বাড়বে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, স্থানীয় ব্যবসার সম্প্রসারণ এবং শিল্পভিত্তিক পরিকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে পুরুলিয়া পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।