প্রশাসনে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই ধারাবাহিকতায় বুধবার প্রশাসনিক ও কর্মিবিনিয়োগ দপ্তরের তরফে সরকারি কর্মচারীদের জন্য একটি কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য করা, সরকারি তথ্য প্রকাশ করা কিংবা বিভিন্ন মিডিয়া অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল স্বাক্ষরিত এই নির্দেশিকা রাজ্যের সমস্ত দপ্তর, জেলা প্রশাসন, কমিশনারেট ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, দ্রুত এই সার্কুলার সমস্ত অধস্তন দপ্তরে পৌঁছে দিতে হবে এবং কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে। নবান্ন সূত্রে খবর, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু সরকারি কর্মচারীর সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য, সামাজিক মাধ্যমে মতপ্রকাশ এবং প্রশাসনিক তথ্য বাইরে চলে যাওয়ার অভিযোগের জেরেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, আইএএস, ডব্লিউবিসিএস, পুলিশ আধিকারিকদের পাশাপাশি সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পুরসভা, পুরনিগম, বোর্ড ও স্বশাসিত সংস্থার কর্মীদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনও কর্মচারী মিডিয়া অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না। এমনকি বেসরকারি বা স্পনসরড অনুষ্ঠানেও যোগদানের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এছাড়া সংবাদমাধ্যমের কাছে সরকারি নথি, তথ্য বা প্রশাসনিক কাগজপত্র সরবরাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া কোনও কর্মচারী সংবাদপত্রে লেখা লিখতে, পত্রিকা সম্পাদনা করতে বা সম্প্রচার মাধ্যমে বক্তব্য রাখতে পারবেন না। একইসঙ্গে কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের নীতি নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করাকেও শাস্তিযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রশাসনের একাংশের মতে, এই নির্দেশিকা সরকারি কর্মচারীদের মতপ্রকাশের পরিসর সীমিত করল। তবে সরকারের দাবি, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং তথ্যের অপব্যবহার রোধ করতেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।