বাজেট ভাষণ রাজ্যের আওড়ানো বুলি নয়, নিজের বক্তব্য রাখার ইঙ্গিত রাজ্যপালের

মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে সস্ত্রীক রাজ্যপাল (File Photo: IANS)

রাজ্য সরকারের সঙ্গে রাজ্যপালের হেলিকপ্টার বিতর্ক। অবসানের পর এবার বাজেট অধিবেশনে ভাষণ রাখার সময় রাজ্যের আওড়ানাে বুলি যে রাজ্যপাল আওড়াবেন না, তার ইঙ্গিত দিলেন তিনি নিজেই। তাঁর দাবি, রাজ্যের যেমন রাজ্যপালের বক্তব্য কী হবে, সেটা তৈরি করে দেওয়ার অধিকার রয়েছে, তেমনই রাজ্যপালের অধিকার রযেছে সেই বক্তব্যে নিজের ধ্যান-ধারণা উল্লেখ করার। তাই বাজেট অধিবেশনে রাজ্যপালের কী বক্তব্য হতে চলেছে, সেই নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে।

আগামী শুক্রবার রাজ্যের বাজেট অধিবেশন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরের ভাষণ দিয়ে সুচনা হবে। নিয়ম অনুযায়ী রাজ্যপাল যে বক্তব্য রাখেন, তার খসড়া তৈরি করে দেয় রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে মাঘ মেলার সূচনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে রাজ্যপালের স্পষ্ট বক্তব্য, সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে বাজেট বক্তৃতায় কিছুটা অংশ তিনি নিজের মতাে করেই বলবেন। তিনি বলেন, রাজ্য সরকারের যেমন অধিকার আছেভাষণ তৈরি করে দেওয়ার, তেমনই রাজ্যপাল হিসেবে আমারও তা কাটফট করার অধিকারও আছে। প্রয়ােজনীয় অংশে নিজের মতামত রাখব’। কিন্তু কী পর্যবেক্ষণ বা মতামত থাকতে চলেছে, সে নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু না জানানােয় ফের শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন।

উল্লেখ্য, শান্তিনিকেতন যাওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে হেলিকপ্টার চাইতেই পুরনাে বিবাদ ভুলে সেই আবেদনে মান্যতা দেয় নবান্ন। তাতে আর নতুন করে কোনও বিতর্ক না দানা বাধায় খুশি রাজ্যপাল। কিন্তু বিশ্বভারতীতে মাঘ মেলায় রাজ্য সরকারের নানা বিষয়ে তিনি সমালােচনায় মুখর হয়ে ওঠেন। ফলে ফের নতুন করে তাঁর সঙ্গে রাজ্য সরকারের বিতর্ক দানা বাধল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।


রাজ্যপালের অভিযােগ, প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি যােজনার সুবিধা থেকে রাজ্যের বৃহৎ অংশের কৃষক বঞ্চিত হচ্ছে। কেন্দ্রের পাঠানাে টাকা কৃষকদের স্বার্থে ব্যবহার করছে না রাজ্য সরকার। এটা তাঁর কাছে খুবই বেদনাদায়ক। রাজ্যপাল এদিন কার্যত নরম সুরে বার্তা দেন। কৃষকদের এভাবে বঞ্চিত যাতে না করা হয়। তাঁর অভিযােগ, কৃষকদের স্বার্থে রাজনীতি করছে রাজ্য সরকার।

বৃহস্পতিবার সকালে হেলিকপ্টারে শান্তিনিকেতনে আসেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। তারপর তিনি মাঘ মেলার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠান শেষে বিশ্বভারতীর তরফে আয়ােজিত কিছু কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার পর আকাশ পথেই কলকাতা ফিরে যান তিনি।