মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনার জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে লেভেল ক্রসিংয়ের গেটম্যানকে। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে তাঁকে এবং সংশ্লিষ্ট সুপারভাইজারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত গেটম্যান দিনের বেশিরভাগ সময় নেশাগ্রস্ত অবস্থায় কেবিনে থাকতেন। তাঁদের দাবি, এদিনও নেশার কারণেই তিনি ঠিক সময়ে গেট বন্ধ করতে ভুলে যান। ক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে কেবিনের ভিতরে আটকে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেয়। পরে বহরমপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
এদিকে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনস্থলে পৌঁছেছেন জেলার পুলিশ সুপার। পাশাপাশি রেলের পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন রেলমন্ত্রী অধীররঞ্জন চৌধুরী। উত্তেজিত জনতার সঙ্গে কথা বলার পর তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই রেলের পরিকাঠামো উন্নয়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। গেটম্যানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সত্য কি না, তা তদন্তে স্পষ্ট হওয়া দরকার। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি স্থায়ী সরকারি কর্মী ছিলেন, না কি আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ করা হয়েছিল এবং তাঁর প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা উচিত।
শুক্রবার সকালে কর্ণসুবর্ণ এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। লেভেল ক্রসিংয়ের গেট খোলা থাকায় দ্রুতগতিতে আসা একটি ট্রেন একটি পুলকার এবং এক সাইকেল আরোহীকে ধাক্কা মারে। এ ঘটনায় মোট তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকেই স্থানীয়দের ক্ষোভ আছড়ে পড়ে গেটম্যানের উপর। তাঁদের অভিযোগ, তাঁর উদাসীনতার ফলেই এই প্রাণহানি ঘটেছে। সেই কারণে কেবিনে আটকে রেখে তাঁর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ দেখান উত্তেজিত জনতা।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, অভিযুক্ত গেটম্যান প্রায়ই মদ ও গাঁজার নেশায় ডুবে থাকতেন। তাঁদের দাবি, অনেক সময় গেট বন্ধ করার পর তা খুলতে ভুলে যেতেন। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেভেল ক্রসিং বন্ধ থাকত। এর জেরে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হত সাধারণ মানুষকে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের। এমনকি গ্রেপ্তারের সময় গেটম্যানের আচরণ দেখে তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই নেমেছ রেল কর্তৃপক্ষ। সাত সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।