বেচারাম মান্না প্রথমে মেলা প্রাঙ্গণের ৫ ও ৬ নম্বর রাস্তার মাঝে অবস্থিত কমিউনিটি টয়লেট ব্লকগুলি পরিদর্শন করেন। লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত জলের ব্যবস্থা-সহ গড়ে তোলা হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার শৌচাগার, চার শতাধিক ভ্রাম্যমাণ শৌচাগার ও বেশ কিছু বায়োটয়লেট। এরপর তিনি সাগর মেলার জন্য গড়ে তোলা কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, ন্যাপকিন ইনসিনেরেটর ইউনিট, মোবাইল টয়লেট, প্লাস্টিক বোতল ক্রাসার ইউনিট গুলি ঘুরে দেখেন। কথা বলেন পুণ্য স্নানের জন্য ভিনরাজ্য থেকে আসা পুণ্যার্থীদের সঙ্গেও।
এদিন বেচারাম মান্না জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে আবর্জনা মুক্ত ক্লিন ও গ্রিন গঙ্গাসাগর মেলা গড়ে তোলার জন্য রাজ্য সরকার বিভিন্ন ধরণের উদ্যোগ নিয়েছে। এখানে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ইউনিটে মেলার পচনশীল আবর্জনাকে জৈব সারে রূপান্তরিত করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে প্লাস্টিক বর্জ্য ধরন অনুযায়ী বাছাই,পরিষ্কার ও শুকনো করে সাগর ব্লকের প্লাস্টিক ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ইউনিটে পাঠানো হচ্ছে। এমনকি সমুদ্রতটে পুণ্যার্থীদের ফেলে যাওয়া পোশাক পরিচ্ছদ দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে নানা উপহার সামগ্রীও।
বেচারাম আরও বলেন, সাগরতট প্রতিনিয়ত পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে নিযুক্ত আছেন এক হাজারের উপরে সৈকত প্রহরী। শৌচাগারগুলিকে পরিচ্ছন্ন রাখবার জন্য দিন-রাত কাজ করছেন নজরদারি কমিটির সদস্যারা। মেলা ও রাস্তাঘাট পরিষ্কারের কাজে যুক্ত আছেন সাফাই কর্মীরাও। আবর্জনা সংগ্রহ করবার জন্য মেলা প্রাঙ্গণে বসানো হয়েছে অসংখ্য ডাস্টবিন এবং এগুলি প্রতিনিয়ত তদারকি করবার জন্য লাগানো হয়েছে জিপিএস সিস্টেম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্লোগানকে যথাযথ রূপ দিতে গঙ্গাসাগর মেলাকে স্বচ্ছতার পুণ্যভূমি হিসেবে তুলে ধরবার জন্য দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন ও সাগর ব্লক প্রশাসনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টাকে মন্ত্রী বেচারাম মান্না ধন্যবাদ জানান।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার গঙ্গাসাগরে এক সাংবাদিক বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন পুরীর গোবর্ধন পীঠের ১৪৫তম শঙ্করাচার্য জগদগুরু স্বামী নিশ্ছলানন্দ সরস্বতী। তিনি স্পষ্ট বলেন, এই প্রক্রিয়ার ফলে যেন একজন যোগ্য ভোটারের নামও বাদ না যায়। তাঁর দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত মানসিক চাপে কয়েকজনের আত্মহত্যা বা অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর খবর তিনি শুনেছেন, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও বেদনাদায়ক।