ফের ভাগীরথীর ভাঙনে আতঙ্ক কিশোরীগঞ্জে, আগাম ফসল কাটা শুরু

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

নাদনঘাটের নসরতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কিশোরীগঞ্জে ফের ভয়াবহ আকার নিচ্ছে ভাগীরথী নদীর ভাঙন। সোমবার থেকে নতুন করে শুরু হওয়া ভাঙনে ইতিমধ্যেই ফসল সমেত কয়েক বিঘা জমি নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে, মঙ্গলবার বহু চাষি নির্ধারিত সময়ের আগেই জমি থেকে ফসল তুলে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, এই গতিতে ভাঙন চলতে থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে অচিরেই মানচিত্র থেকে মুছে যেতে পারে কিশোরীগঞ্জ।

ভাগীরথীর অপর প্রান্তে অবস্থিত কিশোরীগঞ্জ গ্রাম কার্যত জেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। চাষাবাদ ও তাঁতের কাজই এখানকার মানুষের প্রধান জীবিকা। নদীভাঙন, যোগাযোগের সমস্যা ও আর্থিক অনটনের মধ্যেই দিনের পর দিন লড়াই করে চলেন তাঁরা। প্রায় কুড়ি বছর আগে এই এলাকায় বড়সড় ভাঙনের সমস্যা থাকলেও দীর্ঘ কয়েক বছর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক ছিল। তবে গত বছরের মে মাস থেকে ফের ভাঙন শুরু হয়।

ভাঙন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গত বছর জেলাশাসক নিজে নৌকোয় নদী পরিদর্শন করেন। তারপর কিছু অংশে ভাঙন রোধের কাজ শুরু হলেও তা সম্পূর্ণ হয়নি। সোমবার থেকে নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে। কালনা মহকুমাশাসক অহিংসা জৈন দামোদর ক্যানাল ইরিগেশন দপ্তরের সহকারী আধিকারিককে বিষয়টি জানিয়েছেন। প্রশাসনের তরফে ফসলের ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নের কাজও শুরু হয়েছে।


স্থানীয় বাসিন্দা উত্তম অবতার বলেন, সোমবারের ভাঙনে আমার চার–পাঁচ বিঘা জমি ফসল সমেত নদীতে চলে গিয়েছে। এখন সংসার চালানোই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আরও এক চাষি সুভাষ মণ্ডলেরও কয়েক বিঘা জমি ইতিমধ্যেই জলের তলায়। তাঁর জমির বাকি অংশে রয়েছে শাঁকালু ও আলুর চাষ। কিন্তু ভাঙনের ভয়ে সেগুলি আর জমিতে রেখে দেওয়ার সাহস পাচ্ছেন না তিনি।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, গত বছর ভাঙন রোধের যে কাজ শুরু হয়েছিল, তা অসম্পূর্ণ রেখেই বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নতুন করে ভাঙন শুরু হতেই রাতের ঘুম উড়েছে কিশোরীগঞ্জের মানুষের। কেউ কেউ ইতিমধ্যেই ভিটেহারাও হয়েছেন। বিস্তীর্ণ এলাকায় যেভাবে ভাগীরথী একের পর এক জমি গ্রাস করছে, তাতে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ ও ভাঙনরোধী ব্যবস্থা না হলে কিশোরীগঞ্জ একদিন ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নেবে— এই আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে উঠছে।