বেকার যুবক-যুবতীদের চাকরি দরকার এটা ঠিক। কিন্তু তাঁদের এই অসহায়তার সুযোগ নিয়ে যে প্রতারণার ছক কষা যায় এমন হওয়াটা কাম্য নয় বলেই সকলে মনে করেন। সেখানে বেকার যুবক-যুবতীদের চাকরি দেওয়ার জন্য বিধায়কদের জড়িয়ে ছক কষা হয়েছিল বলে অভিযোগ। বেকার যুবক-যুবতীদের যাতে একবারে বিশ্বাস অর্জন করা যায় তার জন্যই এমন ছক বলে মনে করা হচ্ছে। আরও বড় পরিকল্পনা হলো, ফাঁসলে ফাঁসবেন বিধায়করা। প্রতারকরা বেকারদের প্রতারণা করে চম্পট দেবেন এমন ছকই কষা হয়েছিল। তাই প্রতারকরা বিধায়কদের ফোন করে বেকার যুবক-যুবতীদের বায়োডাটা নিয়ে আসার কথা বলছিল। এতেই সন্দেহ হয় এবং বিধায়করা এই নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এই প্রতারণার ছক একেবারেই নতুন। এমন টোপ যে বিধায়করা খাবেন তেমনই মনে করেছিল প্রতারকরা। তাই এলাকার বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য চাকরি আছে বলে বেকারদের বায়োডেটা পাঠাতে বলেছিল প্রতারকরা! এই ফোন পেয়েছেন পূর্ব বর্ধমানের বিধায়করা। এমনটা যে ঘটতে পারে তা সকলেরই কল্পনার অতীত ছিল। কিন্তু ওই প্রতারকরা শুধু ফোন করেই ক্ষান্ত হয়নি। বিধায়কদের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে হোয়াট্সঅ্যাপেও চাকরির বার্তা পাঠিয়ে ছিল প্রতারকরা বলে অভিযোগ। এই গোটা প্রক্রিয়াটাই প্রতারণার জাল! পূর্ব বর্ধমানের একাধিক বিধায়ক এই প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরেই থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
বিজেপি বিধায়কদের দাবি, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ‘সিনিয়র ম্যানেজার’ পরিচয় দিয়ে ফোন করা হচ্ছিল। আর বলা হচ্ছিল, ‘আপনার বিধানসভা এলাকায় বেকার যুবক-যুবতীদের বায়োডেটা পাঠান। মোটা বেতনের চাকরি আছে।’ হোয়াটসঅ্যাপেও একই বার্তা পাঠানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ। ওই প্রতারকদের দেওয়া হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে কয়েকজন বায়োডাটা পাঠিয়েও ছিলেন। এটা প্রতারণার ছক বুঝতে পেরে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের বিজেপি বিধায়ক অরুণ হালদার। তিনি বলেন, ‘এই ধরনের ফোন পেয়েই জামালপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। প্রতারকদের ফোন নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগপত্রে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর থেকে ফোন আসছিল। সবটা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।’ ফোনের ওপারে যে ছিল সে নিজেকে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ‘সিনিয়র ম্যানেজার’ বলে পরিচয় দেয়। বেকার যুবক-যুবতীদের বায়োডাটা এবং তাঁদের কিছু ব্যক্তিগত তথ্যও পাঠাতে বলা হয়েছিল। এমনকী মাসে ৪৫ হাজার বেতনের চাকরি পাবে বলে টোপ দেওয়া হয়।
তাছাড়া এই ফোন বেশ কয়েকজন বিধায়ক পেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। বিশেষ করে বর্ধমানের বিধায়করাই এই ফোন পেয়েছিলেন। এমনকী বিধায়কদের অনেকে এই ফোনকে গুরুত্ব না দেওয়ায় তাঁদের ঘনিষ্ঠদের ফোন করে এমন প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের সূত্রে খবর, এমন ফোন আসছিল। কয়েকজন বিধায়ক সেই ফোন পেয়ে বায়োডাটা পাঠিয়েও ছিলেন। জামালপুরের বিধায়ক থেকে শুরু করে মেমারির বিজেপি বিধায়ক মানব গুহ এবং ভাতারের বিজেপি বিধায়ক সৌমেন কার্ফাও একই ফোন পেয়েছেন। তাঁরা সকলেই বুধবার বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছেন।