জাল দলিল তৈরি করে ব্যাঙ্কের কাছ থেকে মোটা টাকার ঋণ নেওয়ার অভিযোগ। তারপর সেই ঋণের খেলাপি। ভুয়ো নথি ধরা পড়তেই চক্ষু চড়কগাছ ব্যাঙ্কের। শেষমেশ ২০১৮ সালের জালিয়াতি মামলার কিনারা করল কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। হাওড়া থেকে তিন অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ সূত্রের খবর, গ্রেপ্তার হওয়া তিন অভিযুক্তের নাম মানস রায়, তাপস রায় এবং তন্ময় রায়।
পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে জালিয়াতরা জমির ভুয়ো কাগজ তৈরি করেছিল। সেই কাগজ দিয়েই ব্যবসায়ীক ঋণের দরখাস্ত করা হয়েছিল। ব্যাঙ্ক থেকে ওই জালিয়াতদের প্রায় ৪ কোটি টাকা ঋণ মিলেছিল। পুলিশ আরও জানিয়েছে, ২০১৮ সালে ব্যবসার জন্য ঋণ নেওয়া হয়। একাধিক জমি ব্যাঙ্কে বন্দক রাখা হয়েছিল।
অভিযোগ, ওই জমির কাগজপত্র সবটাই ভুয়ো। জালিয়াতির জন্যই ভুয়ো দলিল তৈরি করেছিল অভিযুক্তরা। সেই জালিয়াতির টের পেয়ে ২০১৮ সালে হেয়ার স্ট্রিট থানায় ব্যাঙ্কের তরফে অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তের শুরুতেই অপরাধীদের ধরতে কলকাতা পুলিশ সিট গঠন করে দেয়।
পুলিশ সূত্রের খবর, হাওড়া গ্রামীণ এলাকায় হানা দিয়ে পুলিশ অভিযুক্তদের খোঁজ পায়। এরপর পুলিশ প্রতারণা-সহ একাধিক ধারায় ধৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত নগরপাল (অপরাধ দমনে) কুণাল আগরওয়াল বলেন, ‘অভিযুক্তদের বাড়ি থেকে নগদ দেড় কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ব্যাঙ্ক থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ঋণ নিয়েছিল এই তিন অভিযুক্ত।’
কুণাল আগরওয়াল বলেছেন, ‘মানস রায় এর আগেও একাধিকবার প্রতারণা করেছে। পুরোনো সেই মামলাও তলিয়ে দেখছে পুলিশ।’ তবে এত বড় জালিয়াতির পিছনে আরও কে বা কারা রয়েছে পুলিশ সেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। সেই সঙ্গে এই জালিয়াতির পিছনে বড় কোনও মাথা রয়েছে কি না লালবাজার তাও খতিয়ে দেখছে।