সেপটিক ট্যাঙ্কে নেমে একসঙ্গে চারজনের মৃত্যু, মর্মান্তিক ঘটনা পশ্চিম মেদিনীপুরে

Four Persons Death At Septic Tank Photo-Representative

একসঙ্গে চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হল। সেপটিক ট্যাঙ্কে পড়ে গিয়েছিল একজন। তাকে বাঁচাতে গিয়ে আর একজন নেমে পড়ে। সেটা দেখে আর একজন নেমে পড়ে দু’জনকে বাঁচাতে। আর তিনজনকে বাঁচাতে গিয়ে নেমে পড়ে চতুর্থজন। কিন্তু ফলাফল দাঁড়ায় ওই চারজনের একসঙ্গে মৃত্যু হল। পশ্চিম মেদিনীপুরের মোহনপুরে এই মর্মান্তিক ঘটনাই এখন চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, দিদির বাড়িতে সেপটিক ট্যাঙ্ক তৈরির কাজ করার সময় ওই ট্যাঙ্কের ভিতরেই পড়ে যান ব্যক্তি। ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে দিদিও ওই ট্যাঙ্কের মধ্যে নেমে পড়ে। এই দৃশ্য দেখে মাকে বাঁচাতে সরাসরি নেমেছিলেন ওই মহিলার ছেলে। বিষাক্ত গ্যাসে তিনিও অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের বাঁচাতে গিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তিও ট্যাঙ্কে নেমে পড়েন উদ্ধার করতে। আর এই ঘটনায় পরপর চারজনের মৃত্যু হল। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মোহনপুরে মর্মান্তিক এই ঘটনা নিয়ে এখন আলোড়ন পড়ে গিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, আঁতলা গ্রামে নিজের দিদির বাড়িতে নতুন সেপটিক ট্যাঙ্কের কাজ করতে যান ভাই বদির মল্লিক। আর কাজ চলাকালীন অসাবধানতায় তিনি গভীর ওই ট্যাঙ্কের ভিতর পড়ে যান। দীর্ঘদিন ওই ট্যাঙ্কটি ঢাকা ছিল। তার জেরে সেখানে বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হয়েছিল। ওই বিষাক্ত গ্যাসে বদির মল্লিক অজ্ঞান হয়ে পড়েন। ভাইকে বাঁচাতে ছুটে যান দিদি সারজিনা বিবি। কিন্তু ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে দিদিও ট্যাঙ্কের ভিতরে পড়ে যান।


সারজিনা বিবির আর্তনাদ শুনে ছুটে আসেন ছেলে শেখ রবিউল। মা আর মামাকে বাঁচাতে তিনিও ট্যাঙ্কের ভিতরে নামেন। আর বিষাক্ত গ্যাসে জ্ঞান হারান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে উদ্ধারে নামেন প্রতিবেশী আত্মীয় শেখ সাহেব। তিনিও সেখানে বিষাক্ত গ্যাসে ট্যাঙ্কের ভিতর জ্ঞান হারান। শেখ আবুকালাম নামে আরও এক স্থানীয় ব্যক্তি নেমে আর উঠতে পারেননি। এই পরিস্থিতিতে এক গ্রামবাসী মুখে কাপড় বেঁধে ওই সেপটিক ট্যাঙ্কে নেমে পাঁচজনকে উপরে তোলেন। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা বদির মল্লিক, সারজিনা বিবি, শেখ রবিউল এবং শেখ সাহেবকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অসুস্থ শেখ আবুকালাম ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মোহনপুর থানার পুলিশ দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। সেখান থেকে রিপোর্ট এলেই বোঝা যাবে, বিষাক্ত গ্যাসে এদের মৃত্যু হয়েছে কিনা।