এসআইআর শুনানির নোটিস ঘিরে আতঙ্কে রাজ্যে ফের মৃত্যুর অভিযোগ সামনে এসেছে। মুর্শিদাবাদ, মালদহ, পুরুলিয়া ও বীরভূম এই চার জেলায় চারজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে।
মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি থানা এলাকার নওদাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আকসার শেখ মঙ্গলবার সকালে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তিনি পেশায় একজন শ্রমিক ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্লক প্রশাসনের তরফে এসআইআর শুনানিতে হাজিরা দেওয়ার নোটিস পাওয়ার পর থেকেই প্রবল দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন আকসার। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়বে কিনা, কিংবা আইনি জটিলতায় পড়তে হবে কিনা— এই আশঙ্কাই তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছিল বলে দাবি পরিবারের। মঙ্গলবার ভোরে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, অতিরিক্ত মানসিক চাপ থেকেই হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন তিনি। এই ঘটনায় নওদাপাড়া গ্রামে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসআইআরের নামে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো হচ্ছে।
একই দিনে মালদহের চাঁচল-২ ব্লকের বলরামপুর এলাকায় ষাটোর্ধ্ব জলিল আলির মৃত্যু হয় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে। পরিবারের দাবি, তাঁর নিজের নামে নোটিস না এলেও স্ত্রী, পুত্র ও পুত্রবধূর নামে এসআইআর শুনানির নোটিস আসায় তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ভোটাধিকার ও নাগরিকত্ব নিয়ে আশঙ্কায় ভুগছিলেন জলিল। সোমবার থেকেই অসুস্থবোধ করেন তিনি। মঙ্গলবার সকালে অবস্থার অবনতি হলে মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর মৃতের পরিবারের পাশে দাঁড়ান তৃণমূল বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সী। তাঁর অভিযোগ, এসআইআরের নামে মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। যদিও বিজেপি এই অভিযোগ মানতে নারাজ। প্রশাসনের দাবি, এসআইআর একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া, এ নিয়ে আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। তবে সেই বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে কতটা পৌঁছচ্ছে, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।