শুক্রবার সকালেই পশ্চিম মেদিনীপুরের রাজনীতিতে বড় আলোড়ন পড়ে গেল। পিংলার প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূল নেতা অজিত মাইতিকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। এদিন সকালে খড়গপুর গ্রামীণ থানা এলাকার মাদপুরে অজিত মাইতির বাড়িতে পুলিশের তৎপরতা দেখা যায়। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ডেবরা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবর। তবে কী কারণে খড়গপুর থানার পুলিশ অজিত মাইতিকে গ্রেপ্তার করল সেটা এখন স্পষ্ট নয়। কোন মামলায় এই গ্রেপ্তার করা হয়েছে সেটাও জানা যায়নি। তৃণমূলের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন অজিত মাইতি।
বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি গোবিন্দ দাসকে তৃণমূল জমানায় দলে পদ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর কাছ থেকে মোটা টাকা নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। ওই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই অজিত মাইতির বিরুদ্ধে পুলিশ পদক্ষেপ করল বলে মনে করছেন অনেকে। যদিও পুলিশ এই বিষয়ে কিছু জানায়নি। দীর্ঘদিন তৃণমূলের সঙ্গেই যুক্ত নেতা অজিত মাইতি। অবিভক্ত পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিধায়কও হয়েছিলেন। এখন তিনি জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি। সুতরাং তাঁর গ্রেপ্তার নিয়ে গোটা জেলায় চর্চা শুরু হয়েছে।
এদিন সকালে প্রাক্তন বিধায়কের মাদপুরের বাড়িতে পুলিশ পৌঁছয়। সকালেই অজিত মাইতিকে সেখান থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে ডেবরা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শুক্রবারই তাঁকে মেদিনীপুর আদালতে তোলা হয়। দীর্ঘদিনের পুরনো একটি মামলায় অজিত মাইতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে কী সেই মামলা সেটা নিয়ে পুলিশ মুখ খোলেনি। তাই এই গ্রেপ্তার নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। এই অজিত মাইতি দলের পরাজয়ের পরও নিজের এলাকায় সংগঠন গড়ে তোলার কাজ করছিলেন বলে জানা গিয়েছে। অন্য বহু নেতা দল বদল করলেও অজিত তা করেননি। এমনকী গা-ঢাকাও দেননি।
তাছাড়া অজিত মাইতির বিরুদ্ধে তেমন কোনও বড় দুর্নীতির অভিযোগ ছিল না বলেই কর্মীরা জানিয়েছেন। কিন্তু বিনা কারণে তো গ্রেপ্তার হননি তিনি। সেই কারণ খুঁজতেই কর্মীরা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। একদা পিংলা বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই তৃণমূলের বিধায়ক ছিলেন অজিত মাইতি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও পিংলা থেকে তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু পরাজিত হন। আর নির্বাচন মেটার কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁর গ্রেপ্তার হওয়া নিয়ে হইচই শুরু হয়েছে এলাকায়। এই বিষয়ে তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক প্রদ্যুত ঘোষ বলেন, আমরা শুনেছি পুরনো মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। ঠিক তার আগেই গ্রেপ্তার করা হল। এটা ষড়যন্ত্র।’