গ্রেপ্তার তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, ওড়িশায় গা-ঢাকা দিয়েও পুলিশের জালে

Nirmal Ghosh Arrested Photo-SNS

ওড়িশায় গা-ঢাকা দিয়েও লাভ হলো না। সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হলো পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষকে। আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় জোর করে নির্যাতিতার দেহ সৎকার করার অভিযোগ ওঠে নির্মল ঘোষ-সহ তিনজনের বিরুদ্ধে। এখন আবার খুলেছে আরজি কর ফাইলস। ক্ষমতায় এসে তা খোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল তরুণী চিকিৎসককে। ২০২৬ সালের ৯ আগস্ট পানিহাটিতে হয় স্মরণসভা। সেখান থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, অভয়াকে তিনি ভোলেননি। যারা জড়িত কাউকে ছাড়া হবে না। এরপর সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহ থানায় এফআইআর দায়ের করেন আরজি কর হাসপাতালের মৃত তরুণী চিকিৎসকের বাবা। ওই এফআইআরের ভিত্তিতেই নির্মল ঘোষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

এদিকে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগ ছিল পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ সহ আরও তিনজনের বিরুদ্ধে। গত রবিবার নিহত তরুণী চিকিৎসকের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে পৃথক একটি এফআইআর দায়ের করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটে নতুন করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতার বাবা। ওই এফআইআরে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাট করার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল। তারপরই এই পদক্ষেপ করা হলো। পুলিশ সূত্রে খবর, নতুন করে এফআইআর দায়েরের পরই ওড়িশায় গা-ঢাকা দিয়েছিলেন নির্মল ঘোষ। পুলিশ যাতে নাগাল না পায় তার জন্য নতুন সিমকার্ড ব্যবহার করছিলেন। নতুন সিমকার্ড ব্যবহার করেই ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন নির্মল। এবার মোবাইলে টাওয়ার লোকেশন ধরে নির্মলের গতিবিধি সম্পর্কে জানতে পারে পুলিশ। আর বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা নাগাদ সেই লোকেশন অনুযায়ী পুরী লাগোয়া একটি হোটেলে পৌঁছে যায় পুলিশ। হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় নির্মল ঘোষকে।

অন্যদিকে আরজি কর ঘটনার পর শ্মশানে গিয়ে তথ্য লোপাট করার অভিযোগ ওঠে, নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। তারপর থেকে দুই ব্যক্তির ভূমিকা অত্যন্ত সন্দেহজনক এবং সেটা বিশদে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে দাবি ওঠে। ওই ঘটনার দিন তড়িঘড়ি কেন দেহ দাহ করা হলো? প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও এই কথা বলেছেন। তারপরই তাঁদের নাম-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। বৃহস্পতিবার নির্মল ঘোষকে ওড়িশার একটি আদালতে হাজির করিয়ে রাতের মধ্যেই ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে নিয়ে আসা হবে কলকাতায়। শুক্রবার তাঁকে ব্যারাকপুর আদালতে হাজির করতে পারে পুলিশ। নির্মলের গ্রেপ্তার হওয়া প্রসঙ্গে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘এটা আগেই হওয়া উচিত ছিল।’


তাছাড়া কদিন আগে পানিহাটির লোকসংস্কৃতি ভবনে নিহত চিকিৎসকের স্মরণসভায় মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী কমিটি গঠিত হবে। যা নতুন একটি মামলা দায়ের করে তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাবে। কারণ ঘোলা থানার অন্তর্গত নাটাগড় কদমতলা শ্মশানে নির্যাতিতার দাহকাজ প্রক্রিয়ায় বেআইনি হয়েছিল। দাহকাজের সিরিয়াল ৩ নম্বরে থাকলেও রাতারাতি সেটা বদলে ১ নম্বর করে তড়িঘড়ি সৎকার করা হয়েছিল। শ্মশানের নির্ধারিত খরচ পরিবারের লোক দেয়নি। মৃতার পরিবারের কোনও নিকট আত্মীয়ের বাধ্যতামূলক স্বাক্ষরও নেওয়া হয়নি। গত ১৩ জুলাই গ্রেপ্তার হয়েছিলেন নির্মল ঘোষের ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষ। ঠিক একমাসের মাথায় গ্রেপ্তার হলেন তাঁর বাবা নির্মল ঘোষ।