পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক নির্মল ঘোষ এবং তাঁর ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ। কারণ তাঁরা গা-ঢাকা দিয়েছেন বলে অভিযোগ। রাজ্যে পালাবদলের পরও তাঁদের দেখা গিয়েছিল। কিন্তু তোলাবাজি, দুর্নীতি-সহ একাধিক অভিযোগ সামনে আসতেই বাবা-ছেলে গা-ঢাকা দিয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে থানাতেও অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই বাবা-ছেলেকে খুঁজতে নানা জায়গায় গিয়েছেন। কিন্তু শনিবার থেকেই নির্মল ঘোষ বাড়িতে নেই। গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় বাবা-ছেলে কি আত্মগোপন করলেন? উঠছে প্রশ্ন।
এদিকে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ভয় দেখিয়ে তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে নির্মল ঘোষ এবং তাঁর ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষের বিরুদ্ধে। তাঁদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন পানিহাটির এক বড় পানশালার মালিক সুশান্ত সরকার। বাবা-ছেলেকে ধরতে না পারলেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে সুশান্ত সরকারকে। সুশান্ত সরকার আবার নির্মল ঘোষের অনুগামী ছিল বলে খবর। খড়দহ থানার পুলিশ সুশান্ত সরকারকে গ্রেপ্তার করে ব্যারাকপুর আদালতে তোলে পুলিশ। তাঁকে জেরা করেই নির্মল ঘোষ ও তীর্থঙ্কর ঘোষের সন্ধান পেতে চাইছে পুলিশ। প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ এবং তাঁর ছেলের মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে রাজ্যের নানা প্রান্তে খোঁজ চালানো হচ্ছে। তবে এখনও অধরা বাবা-ছেলে।
অন্যদিকে আরজি কর কাণ্ডে নির্যাতিতার দেহ দ্রুত দাহ করার পিছনে নির্মল ঘোষের হাত ছিল বলে অভিযোগ। সেই অভিযোগ তুলেছিলেন ধর্ষণ করে খুন করা তরুণী চিকিৎসকের মা। এখন তিনি বিজেপির বিধায়ক। নির্মল ঘোষের ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষ ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পানিহাটি আসনে তৃণমূল প্রার্থী হয়েছিলেন। তবে বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথের কাছে হেরে যান। নির্বাচনে পরাজয়ের পর এখন তোলাবাজির অভিযোগে বাবা-ছেলেকে খুঁজছে পুলিশ।
তাছাড়া এলাকায় নানা মানুষের উপর অত্যাচার করার অভিযোগ রয়েছে বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে। চমকে-ধমকে টাকা আদায় করার অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। এখন পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তাঁরা গা-ঢাকা দিয়েছেন বলে অভিযোগ। তবে দেশের বাইরে যেতে পারেননি তাঁরা বলেই পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। এক ব্যক্তি লটারিতে প্রথম পুরষ্কার জিতে এক কোটি টাকা পেয়েছিলেন! ওই ব্যক্তির থেকে লটারির টিকিট ছিনিয়ে নিয়ে চলে গিয়েছিলেন নির্মল ঘোষ বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার তদন্তও শুরু করেছে পুলিশ। রাজ্যে পালাবদলের পর একাধিক অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করেছে এই বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে। এই বিষয়ে বিজেপির যুবনেতা জয় সাহা বলেন, ‘এরা সব ধরনের দুষ্কৃতীমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত। ধৃত ব্যক্তি টাকা তুলে নির্মল ঘোষ এবং তীর্থঙ্কর ঘোষের কাছে পাঠাত। অপেক্ষা করুন, তীর্থঙ্কর ঘোষ এবং নির্মল ঘোষ গ্রেপ্তার হবেন।’