‘খুব বাঁচা বেঁচে গেছি সেই মনোকষ্ট থেকে’, রচনাকে নিয়ে মমতাকে ঘুরিয়ে খোঁচা মনোরঞ্জনের

সদ্য তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া বাক্যবাণ নিক্ষেপ করেছেন হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন ২০ জন বিধায়ক এনসিপিআই দলে যোগ দিয়েছেন। তার মধ্যে রয়েছেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার রচনাকে সামনে রেখে ঘুরিয়ে তৃণমূলনেত্রীকে খোঁচা দিলেন বলাগড়ের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী। হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সমাজমাধ্যমে মুখ খুললেন মনোরঞ্জন। সেই পোস্ট ঘিরে নতুন করে রাজ্য-রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

এদিকে দলের কাজ থেকে সরানো এবং চলতি বছরে বিধানসভা নির্বাচনে টিকিটও দেওয়া হয়নি মনোরঞ্জন ব্যাপারীকে। তৃণমূলের ভাঙনের মরশুমে হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ও স্রোতে ভেসে গিয়েছেন। আর এবার একদিকে রচনাকে নিশানা করে অপরদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খোঁচা দিলেন তিনি। আর সমাজমাধ্যমে মনোরঞ্জন লিখলেন, ‘রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় পালটি মেরেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ সঠিক সময়ে আমাকে তৃণমূল থেকে বহিষ্কার করার জন্য। না হলে আজ আমার খুবই আফসোস হতো, সমস্ত পরিশ্রম জলে চলে গেল বলে।’

অন্যদিকে একদা রিকশা চালিয়েছেন তিনি। তারপর শুরু করেন সাহিত্য চর্চা। সেখানে আসে সাফল্য। তবে অর্থের অভাব কাটেনি। পরে ২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে রাজনীতিতে আসেন মনোরঞ্জন ব্যাপারী। বলাগড় থেকে প্রার্থী হয়ে জিতেছিলেন তিনি। যদিও স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে কোনওদিনই খাপ খাইয়ে নিতে পারেননি তিনি। তাই একাধিকবার সরব হয়েছেন। সমাজমাধ্যমেও দলের বিরুদ্ধে নানারকম মন্তব্য করেছেন। শাস্তিও জুটেছে। ভরা সভায় তাঁকে দলের কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার বলাগড়ের প্রাক্তন বিধায়ক সমাজমাধ্যমে লিখলেন, ‘আমার কোনও আক্ষেপ নেই। রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টি মেরেছে। সত্যি বলছি আমার এতে কোনও আক্ষেপ নেই। আক্ষেপ তখন হতো যদি রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ২০২৪ সালের লোকসভার নির্বাচনে জয়ী করার জন্য আমি কোনওরকম পরিশ্রম করতাম।‌ যখন তাঁর নির্বাচনে প্রচার চলেছিল আমি তখন নাকে তেল দিয়ে শুয়ে ঘুমাচ্ছিলাম। কারণ মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক জনসভায় প্রকাশ্য মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমাকে দলের সমস্ত কাজকর্ম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন।’


তাছাড়া আরও বেশকিছু কথা লিখেছেন মনোরঞ্জন। আপাতদৃষ্টিতে রচনাকে আক্রমণ করছেন তিনি মনে হলেও ঘুরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও খোঁচা দিয়েছেন। তাই তাঁর লেখায় উঠে এসেছে, ‘আজ আমার খুবই আফসোস হতো সমস্ত পরিশ্রম জলে চলে গেল বলে। খুব বাঁচা বেঁচে গিয়েছি সেই মনোকষ্ট থেকে।’ একদিন আগেই রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে বলেছেন, ‘সেলিব্রিটি বলেই উনি আমাকে ইউজ করেছেন।’