পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার আসার পর থেকে নানা জায়গা থেকে তৃণমূল নেতা, প্রাক্তন মন্ত্রী-বিধায়ক তোলাবাজি, দুর্নীতি-সহ নানা অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস। বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র-সহ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে এই ঘটনা জানাজানি হতেই আলোড়ন ছড়িয়ে পড়েছে। প্রাক্তন বিধায়ক তথা উত্তর ২৪ পরগনার প্রাক্তন জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস যে গাড়ি ব্যবহার করেন সেখান থেকেই ওই আগ্নেয়াস্ত্র মিলেছে বলে অভিযোগ।
পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার দুপুরে বনগাঁর গোপালনগর বাজার এলাকা দিয়ে গাড়ি করে যাচ্ছিলেন প্রাক্তন বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস। তখন গোপালনগর থানার পুলিশ তাঁর পথ আটকে দাঁড়ায়। বিশ্বজিৎকে গাড়ি থেকে নামিয়ে শুরু হয় তল্লাশি। ভিতর থেকে তখনই উদ্ধার হয় বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র। ওই অস্ত্র কোথা থেকে এল? কেন ওই অস্ত্র গাড়িতে রাখা ছিল? প্রশ্ন করা হয় তৃণমূল নেতাকে। যার কোনও সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি। তাই বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় বিশ্বজিৎ দাসকে।
এই বিশ্বজিৎ দাস বনগাঁ উত্তর কেন্দ্র থেকে দু’বারের বিধায়ক ছিলেন। প্রথমে তৃণমূলের বিধায়ক ছিলেন। ২০২১ সালে বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন। বিধায়ক হওয়ার কয়েক মাস পরে আবার তৃণমূলে ফিরে যান। ২০২৪ সাল থেকে তাঁকে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতির দায়িত্ব দেয় তৃণমূল। তিনি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বনগাঁ কেন্দ্রে তৃণমূলের হয়ে প্রার্থী হয়ে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছিলেন। এমনকী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বনগাঁ উত্তর কেন্দ্র থেকেও তিনি তৃণমূলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। বিজেপি প্রার্থী অশোক কীর্তনিয়ার কাছে পরাজিত হন।
তাছাড়া পরাজয়ের পরে মমতা তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে ছিলেন বিশ্বজিৎ দাস। কদিন আগে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে গিয়ে দেখা করে আসেন। ঋতব্রতকে ‘আমার নেতা’ বলে সম্বোধনও করেছিলেন বিশ্বজিৎ। তবে বিশ্বজিতের গ্রেপ্তার নিয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব কোনও মন্তব্য করতে চাননি। এই ঘটনা নিয়ে তৃণমূলকে তীব্র কটাক্ষ করে হাবড়ার বিজেপি বিধায়ক দেবদাস মণ্ডল বলেন, ‘আরও আগে গ্রেপ্তার হওয়া উচিত ছিল ওর। দেরি হয়েছে।’ আর বনগাঁ পুলিশ জেলার সুপার বিদিশা কলিতা দাশগুপ্ত বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে ওঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।’