দলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, শারীরিক কারণ উল্লেখ করলেন চিঠিতে

প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। ফাইল চিত্র।

দলের শুরুর দিনের সঙ্গী তিনি। রাজনৈতিক অনেক চড়াই-উতরাই দেখেছেন। লড়াই, আন্দোলন করে উপরে উঠে এসেছেন। দলীয় পদ থেকে মন্ত্রিত্ব সবই পেয়েছিলেন। বিপদে আপদে দল সবসময় পাশে ছিল। তাঁরও দলের প্রতি অনেক অবদান রয়েছে। কিন্তু এবার সেই দলেরই সমস্ত পদ ছেড়ে দিলেন তিনি। হ্যাঁ, তিনি প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। শুক্রবার তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। শারীরিক অসুস্থতার জেরেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

এদিকে এই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক উত্তর ২৪ পরগনার সংগঠন নিজে হাতে গড়ে তুলেছিলেন। তখন তাঁর সঙ্গে ছিলেন মুকুল রায়ও। তারপর থেকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। মাঝে জেলযাত্রাও হয়েছিল তাঁর। কিন্তু নেত্রীর প্রতি তখনও পূর্ণ আস্থা, ভরসা ছিল তাঁর। জেল থেকে বেরিয়ে এসে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর উপর ভরসা রেখেছিলেন। কিন্তু তিনি বিজেপির কাছে হেরে যান। তারপর থেকে নিজেকে গৃহবন্দি করে রাখেন। এবার তাঁকে দলের পদও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা বেশিদিন স্থায়ী হলো না। কারণ তিনি নিজেই দলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন বলে চিঠি লিখে জানিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমোকে।

অন্যদিকে গত শনিবারই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ওরফে বালুকে দলের জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য করা হয়েছিল। সপ্তাহ কাটল না। তার আগেই ইস্তফা দিলেন একদা খাদ্যমন্ত্রী। ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা থেকেই দলের সঙ্গে ছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইয়ের সঙ্গী ছিলেন। নেত্রীও তাঁকে ভরসা করতেন। তাই জেলযাত্রার পরও বিধানসভা নির্বাচনের টিকিট দিয়েছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে। তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত পদ ছাড়ার কারণ জানিয়ে শুক্রবার জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘আমার ৩৫০-এর উপর সুগার রয়েছে। কিডনি খারাপ হয়ে গিয়েছে। এখন দলের কোনও কাজকর্মে আমি যুক্ত থাকতে পারছি না। তাই সব পদ ছেড়ে দিলাম।’


তাছাড়া তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। খাদ্যমন্ত্রী থাকার সময় রেশন দুর্নীতিতে জ্যোতিপ্রিয় যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। তাই এই মামলায় তাঁকে জেলে যেতে হয়েছিল। দল ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা এখন ঘটছে ঘাসফুল শিবিরে। বিধায়ক, সাংসদরা নিজেদের মতো করে সরে পড়েছেন। তিনজন রাজ্যসভার সাংসদ পদত্যাগ করেছেন। একাধিক পুরসভার চেয়ারম্যান, মেয়র-সহ একাধিক নেতা পদত্যাগ করেছেন। সুতরাং তৃণমূলের জাহাজ যে ডুবেছে সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই এই পদত্যাগ বলেই মনে করা হচ্ছে।