ভোটার তালিকা সংশোধনের ডাকে নিজের বুথে হাজির হয়ে অপ্রত্যাশিত জটিলতার মুখে পড়লেন প্রাক্তন সাংসদ ও এসইউসিআই নেতা ডা. তরুণ কুমার মণ্ডল। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নিজের নাম না থাকার বিষয়টি সামনে আসতেই নতুন করে নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়। আর সেখানেই মৃত মায়ের পরিচয় ও নাগরিকত্ব প্রমাণে অতিরিক্ত কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে বলে অভিযোগ।
জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ১৯৮৬ সাল থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগে চিকিৎসা আধিকারিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সে সময় তিনি কলকাতার কেন্দ্রীয় সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্প দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে তাঁর বদলি হয় মহারাষ্ট্রের নাসিকে অবস্থিত ইন্ডিয়া সিকিউরিটি ও কারেন্সি নোট প্রেস হাসপাতালের প্রধান চিকিৎসা আধিকারিক পদে। ১৯৯৫ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত তিনি বেলভেডিয়ার এস্টেটের সরকারি আবাসনে বসবাস করতেন।
অভিযোগ, ২০০২ সালের নিবিড় সংশোধন পর্বে তাঁর নাম তালিকাভুক্ত হয়নি। যদিও তিনি জানান, তার আগে ও পরে একাধিকবার ভোট দিয়েছেন এবং হাওড়ার বর্তমান ঠিকানায় দীর্ঘদিন ধরেই ভোটার হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছেন। ২০০৯ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত জয়নগর লোকসভা কেন্দ্র থেকে দেশের লোকসভার সদস্য হিসেবে তিনি নির্বাচিত হন।
২০০২ সালের এপ্রিল মাসে তিনি হাওড়া পুরসভার অন্তর্গত লক্ষ্মী নারায়ণতলা রোডের বি গার্ডেন এলাকায় চলে আসেন। বর্তমানে সেখানেই তাঁর বসবাস। সম্প্রতি বুথ স্তরের আধিকারিক সুস্মিতা ভট্টাচার্য তাঁর মায়ের পরিচয় প্রমাণে অতিরিক্ত নথি চান। যদিও ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর মায়ের নাম ও পরিচয়পত্রের ছবি দেখানো হয়। তবুও নতুন নির্দেশ এসেছে জানিয়ে মৃত্যুসনদের অনুলিপি জমা দিতে বলা হয়েছে।
প্রাক্তন সাংসদ জানান, ‘২০০২ সালের তালিকাই যখন ভিত্তি, তখন সেটাই যথেষ্ট হওয়ার কথা। তবু নতুন নির্দেশের কথা বলে আবার নথি চাওয়া হল।’ তিনি সঙ্গে থাকা মৃত্যুসনদের অনুলিপি বাইরে থেকে তুলে এনে জমা দেন এবং প্রাপ্ত নোটিশে স্বাক্ষর করেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমার মতো একজন প্রাক্তন সাংসদকে যদি এভাবে বারবার হাজিরা দিতে হয়, তাহলে সাধারণ নাগরিকদের কী পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে, তা সহজেই অনুমেয়।’ তাঁর দাবি, এই তলবের কারণে নির্ধারিত মুর্শিদাবাদ সফরও সংক্ষিপ্ত করে ফিরতে হয়েছে।
উল্লেখ্য, তাঁর স্ত্রী মহুয়া নন্দের ক্ষেত্রেও ২০০২ সালের ভোটার তালিকা, ভোটার পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের অনুলিপি জমা দেওয়া হয়েছে। তবুও যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অনিশ্চয়তা কাটছে না বলেই অভিযোগ। নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রশাসনের কড়াকড়ি প্রয়োজন বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে একই সঙ্গে তাঁদের মতে, যাচাই প্রক্রিয়া যেন নাগরিকদের অযথা হয়রানির কারণ না হয়, সেদিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অনেকের মনেই অনিশ্চয়তা থেকে যাচ্ছে, তিনি আদৌ ভোটার হিসেবে স্বীকৃত থাকবেন কি না।